পটুয়াখালীতে রিপন কাজী হত্যার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
পটুয়াখালীতে রিপন কাজী হত্যার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী সদর থানার রিপন কাজী হত্যা মামলার বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার এবং নিহতের পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে নিহতের স্বজনদের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত রিপন কাজীর মেজ ভাই মো. রাব্বি কাজী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৩০ জুন রাত আনুমানিক ১১টা ৩৫ মিনিটে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাজঘোনা এলাকায় রিপন কাজীর ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। রিফাত কাজী, রাসেল কাজী, সোহাগ কাজী, রাহাত কাজী, আব্দুল আলিম মৃধা, মিজানুর রহমান ভুট্টু কাজী এবং রিয়াজ হাওলাদারসহ দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় গত ২ জুলাই নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাব্বি কাজী বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামি রাসেল কাজী ও সোহাগ কাজীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। তবে মামলার বাকি আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার না হয়ে উল্টো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিহতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সম্প্রতি আমতলী থানায় নিহত রিপন কাজীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি পাল্টা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী মাহফুজা বলেন, আমার শ্বশুর মিজানুর রহমান ভুট্টু কাজী তাঁর ভাইয়ের ছেলেদের প্ররোচনায় নিজের জমিজমা বিক্রি করে একাধিক বিয়ে করায় সন্তানদের সঙ্গে কলহের সৃষ্টি হয়। এছাড়া রিপন কাজী এলাকায় শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন এবং আগামী ইউপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অপরদিকে তাঁর চাচাতো ভাই রিফাত, রাসেল, সোহাগ ও রাহাতও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মূলত পথের কাঁটা সরিয়ে দিতেই বাবা মিজানুর রহমানকে সাথে নিয়ে চাচাতো ভাইয়েরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে হত্যা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এ সময় নিহতের মা আমেনা বেগম, ছোট ভাই সাব্বির কাজী এবং ছোট বোন রাহিমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

জেএইচআর