জনবল সংকটে বাগাতিপাড়া প্রাণিসম্পদ দপ্তর, ব্যাহত টিকাদান ও খামারি সেবা

আব্দুল মজিদ, নাটোর প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
জনবল সংকটে বাগাতিপাড়া প্রাণিসম্পদ দপ্তর, ব্যাহত টিকাদান ও খামারি সেবা

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকটে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনুমোদিত ১১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ১২ হাজার ছোট-বড় খামারিকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দপ্তরটিকে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের টিকাদান কর্মসূচি, উঠান বৈঠক, সম্প্রসারণ কার্যক্রম এবং খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলার ছাগল খামারি আমিরুল ইসলাম বলেন, আমার একটি ছাগলের খামার রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কাঙ্ক্ষিত সেবা আমরা পাচ্ছি না। দপ্তরের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে আমরা খামার সম্প্রসারণে আরও উৎসাহিত হতাম।

গরুর খামারি আফসার আলী বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সেবায় আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। সরকারের উচিত দ্রুত জনবল সংকট দূর করে দপ্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা, যাতে খামারিরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পান।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান জানান, দপ্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) পদের তিনটির মধ্যে বর্তমানে কার্যত কোনো কর্মকর্তা কর্মরত নেই। একজনকে পদায়ন করা হলেও তিনি গত এক বছর ধরে ঢাকায় ডেপুটেশনে রয়েছেন। ফলে প্রায় তিন বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে এ পদে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো কর্মকর্তা নেই। এছাড়া ড্রেসার পদে কর্মরত ব্যক্তিও বর্তমানে রাজশাহীতে ডেপুটেশনে থাকায় পদটিও কার্যত শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে সরকারি টিকাদান কর্মসূচি নির্ধারিতভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবকদের (ভলান্টিয়ার) মাধ্যমে টিকাদানের কাজ পরিচালনা করতে হলেও সরকারি প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন খামারি ও পশুপালক চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে আসেন। কিন্তু সীমিত জনবল দিয়ে সবার কাছে দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগ প্রতিরোধ, পরামর্শ প্রদান, উঠান বৈঠক এবং সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তবে তিনি জানান, কৃত্রিম প্রজনন (এআই) কার্যক্রমে বর্তমানে তেমন কোনো সমস্যা নেই। এ খাতে প্রয়োজনীয় জনবল থাকায় সেবা স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে।

জরুরি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাও কঠিন হয়ে পড়ে উল্লেখ করে ডা. মো. রোকনুজ্জামান বলেন, “অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। তারপরও বিদ্যমান জনবল নিয়েই আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

তিনি জানান, জনবল সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে মহাপরিচালকের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে জনগণের দোরগোড়ায় আরও কার্যকরভাবে প্রাণিসম্পদ সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা বাগাতিপাড়ার প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। আমার স্বপ্ন, এই উপজেলার প্রতিটি বাড়ি একটি মডেল খামারে পরিণত হবে এবং প্রতিটি পরিবার অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।

স্থানীয় খামারিদের দাবি, দ্রুত শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ দিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জনবল সংকট দূর করা হলে টিকাদান কর্মসূচি, রোগ প্রতিরোধ, খামারি প্রশিক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ের সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি খামারিরাও আরও বেশি উপকৃত হবেন।

এম জি