নেত্রকোণায় ১৩ বছর পর ধর্ষণ মামলার রায়: আসামির যাবজ্জীবন, পিতৃপরিচয় পেল সন্তান

গোলাম কিবরিয়া সোহেল, নেত্রকোণা প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
নেত্রকোণায় ১৩ বছর পর ধর্ষণ মামলার রায়: আসামির যাবজ্জীবন, পিতৃপরিচয় পেল সন্তান

নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বহুল আলোচিত একটি ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে ভুক্তভোগীর সন্তানের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতি দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১ মার্চ রাতে বারহাট্টা উপজেলায় নিজ বসতঘরে এক স্বামী-পরিত্যক্তা ও মানসিকভাবে সরল প্রকৃতির নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসামি হেলাল। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা ও বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আসামি হেলাল ধর্ষণের ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং অনাগত সন্তানের পিতৃত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই বারহাট্টা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ অক্টোবর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ডিএনএ প্রতিবেদনের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, ওই শিশুর জৈবিক পিতা হেলাল।

নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নুরুল কবীর রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে। আদালতের এই রায়ের ফলে শিশুটি এখন থেকে হেলালের আইনগত সন্তান হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি পাবে। একই সাথে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সে পিতার সম্পত্তিসহ অন্যান্য সকল আইনগত অধিকারের দাবিদার হবে।

জেএইচআর