টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নদীর পূর্ব তীরের চরহামুয়া-কালীগঞ্জ এলাকার বাঁধটি ভেঙে যায়। এতে দ্রুত লোকালয়ে পানি ঢুকে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। রাতের মধ্যে আরও নতুন নতুন এলাকায় পানি ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঁধ ভাঙার পর নদীর পানি দ্রুত চরহামুয়া ও কালীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি তলিয়ে দেয়। আকস্মিক বন্যায় অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে ছুটে যান। তবে পর্যাপ্ত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই স্থানীয় স্কুল ও মাদ্রাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ১০ নম্বর লস্করপুর, ৪ নম্বর পইল, ৩ নম্বর তেঘরিয়া ইউনিয়ন এবং ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে এই বিপর্যয়ের জন্য খোয়াই নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলনকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী। নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু তোলার কারণে নদীর তীররক্ষা বাঁধটি আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ফলে ঢলের পানির প্রবল স্রোত আর সামলাতে পারেনি।
লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উজ্জ্বল মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মের বাইরে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই বাঁধটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অবশেষে প্রবল পানির চাপে সেটি ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হলো। ভবিষ্যতে এমন বড় বিপর্যয় ঠেকাতে খোয়াই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধের জোর দাবি জানান তিনি।
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ টিম প্লাবিত এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে দ্রুত সরকারি সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা এবং জরুরি ত্রাণের দাবি জানিয়েছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন