কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সোমবারের পরীক্ষায় তীব্র ‘সময় বিড়ম্বনার’ মুখে পড়েছে সহস্রাধিক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। নগরীতে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে দেরিতে প্রবেশ করা পরীক্ষার্থীদের অনেকেই এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী অভীক্ষা) পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ২৫ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১৫ মিনিট সময় পেয়েছেন।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই কেন্দ্রের সকল পরীক্ষার্থীদের জন্য ৩০ মিনিট সময় অতিরিক্ত দেওয়ার নির্দেশ দিলেও পুরো সময় লিখিত (সৃজনশীল) অংশে দেওয়া হয়। ফলে পরীক্ষার্থীরা এমসিকিউতে কোনো অতিরিক্ত সময় পাননি।
মহিলা কলেজ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এই কেন্দ্রে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ১ হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ভবনের একটি কক্ষ ব্যতীত সব কক্ষই দ্বিতীয় তলা থেকে উপরের অন্যান্য ফ্লোরে অবস্থিত। তবে নিচতলার একটি কক্ষে পানি ওঠায় তা উপরের ফ্লোরে স্থানান্তর করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেউ নৌকায় চড়ে, কেউবা কোমর পানি মাড়িয়ে ভিজে কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। কলেজ ক্যাম্পাসের পুরোটাই তখন পানিতে নিমজ্জিত ছিল। এই সময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুকে নৌকা, ভ্যান ও রিকশাযোগে পরীক্ষার্থীদের ভেতরে নেওয়ায় সরাসরি সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।
এই কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেকেই জলাবদ্ধতা মাড়িয়ে ভিজে সকাল ১০টার পরও কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এরই মধ্যে নির্ধারিত সময়ে এমসিকিউ ওএমআর শিট ও খাতা বণ্টন করা হয়ে যায়। এতে দেরিতে প্রবেশ করা পরীক্ষার্থীরা নাম, রোল, সেট কোড ও রেজিস্ট্রেশনের বৃত্ত ভরাট এবং হাজিরার নথিতে তথ্য লেখার পর মাত্র ১৫ মিনিট বা তারও কম সময় পেয়েছেন। এই অংশে কোনো পরীক্ষার্থীকেই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি।
পরীক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, নির্ধারিত সময়েই এমসিকিউ প্রশ্ন দেওয়া এবং শেষ করা হয়। খাতার প্রয়োজনীয় বৃত্ত ভরাটের পর অবশিষ্ট ১০-১৫ মিনিটে অর্ধেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও সময় বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল। পুরো বর্ধিত সময় দেওয়া হয় সৃজনশীল অংশে, যার কোনো দরকারই ছিল না।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, বোর্ডের দুজন কর্মকর্তা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন এবং লিখিত অংশে আধা ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টায় এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ ও শেষ করা হয়েছে। তবে পৃথকভাবে কিছু সময় এমসিকিউতে বাড়িয়ে দিলে এমন বিতর্ক হতো না। এই বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা শুরুর আগেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে ভালো হতো।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ৬ জেলায় জলাবদ্ধতার কারণে বড় কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ৩০ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক পরীক্ষার্থী বিলম্বে প্রবেশ করায় এবং যথাসময়ে প্রশ্ন দেওয়ায় অনেকেই সময় কম পেয়েছেন। বর্ধিত সময় শুধু লিখিত অংশে না দিয়ে এমসিকিউ অংশেও কিছুটা দেওয়া দরকার ছিল, যা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ করতে পারতেন।
জলাবদ্ধতার কারণে অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো নগরীর ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র গেটে মাইকিং করে পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।
অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘বোর্ড থেকে দুই কর্মকর্তা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে গেছেন। অন্তত ৮০ জোড়া বেঞ্চ-টেবিল আনা হলে এখানে মহিলা কলেজের সকল পরীক্ষার্থীর অবশিষ্ট পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না।’ বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, আজ রাতের মধ্যেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন