টানা বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১৬ জুলাই থেকে পুনরায় চালুর পরিকল্পনা করেছে জেলা প্রশাসন। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে এবং নতুন করে বড় ধরনের কোনো দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বান্দরবানের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস।
তিনি বলেন, টানা কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকলে ১৬ জুলাই থেকে পর্যটকদের জন্য সব দর্শনীয় স্থান খুলে দেওয়া হবে। বর্তমানে প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বান্দরবানের অর্থনীতির একটি বড় অংশ পর্যটননির্ভর। দীর্ঘ সময় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন কার্যক্রম আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সম্প্রতি সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এর ফলে বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগও সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকালে জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন মানুষ আশ্রয় নেন। এছাড়া প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসতবাড়ি টানা পাঁচ দিন পানির নিচে ছিল। দুর্যোগে পাহাড়ধসে ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং পানির প্রবল স্রোতে একজন নিখোঁজ হওয়ার পর মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৬টি পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন