স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং অভিযোজন কার্যক্রমে যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে ‘জলবায়ু অভিযোজনে যুবদের সম্পৃক্তকরণ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী কোডেক ট্রেনিং সেন্টারে স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (এলজিআইসিসি)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুবসমাজের ভূমিকা, স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজিআইসিসি প্রকল্পটি সুইডেন সরকারের অর্থায়নে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং জাতিসংঘ ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (ইউএনসিডিএফ) সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের যুব-যুবতীদের নিয়ে একটি যুব প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্ম স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার পাশাপাশি যুবদের নেতৃত্ব, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কমিউনিটিভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করবে।
প্ল্যাটফর্মের সদস্যদের জলবায়ু পরিবর্তন, নেতৃত্ব, সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা, অ্যাডভোকেসি, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং, জলবায়ু সহনশীল জীবিকা, স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
কর্মশালায় আরও জানানো হয়, এই যুব প্ল্যাটফর্ম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যুব সংগঠনের সঙ্গে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান, অ্যাডভোকেসি পরিচালনা এবং বিশেষ করে যুব নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
প্রকল্পের আওতায় দক্ষ মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হবে। তারা পরবর্তীতে অন্যান্য যুবদের জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। একই সঙ্গে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলা, নিম্ন-কার্বন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও যুব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় যুবসমাজের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে এবং টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন