এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে স্কুলের জমি দখলের অভিযোগ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে স্কুলের জমি দখলের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে। তবে কাফির দাবি, তিনি কোনো জমি দখল করেননি; আদালতের রায়ে মালিকানা পাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে জমি কিনে বৈধভাবেই রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও কাফির পক্ষ থেকে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

নুরুজ্জামান কাফি কলাপাড়া উপজেলার রজপাড়া গ্রামের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগ দেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রজপাড়া মৌজায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। ১৯৫৪ সালে খঞ্জন আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ৩ একর ৩৩ শতাংশ, ১৯৫৯ সালে মোবারক আলীর কাছ থেকে ৩ একর ৩৩ শতাংশ, ১৯৬৭ সালে এডিএফসি ব্যাংকের নিলাম থেকে ২৯ একর ১৮ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে ৪ একর ৮০ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব জমি তারা ভোগদখল করে আসছে। মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমির মধ্যে রজপাড়া মৌজার জেএল নম্বর-৯ এর বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির খাজনা বঙ্গাব্দ ১৪৩২ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে দলিল করে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের অভিযোগ, সম্প্রতি ওই জমির মধ্যে সিক্সলেন সড়কের উত্তর পাশে প্রায় ৬ শতাংশ জায়গা দখল করে নুরুজ্জামান কাফি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। বিদ্যালয়ের ওই অংশের পাশে কাফির নিজস্ব রেকর্ডভুক্ত জমি রয়েছে। সেখানে যাওয়ার জন্য পথ না থাকায় তিনি ওই রাস্তা নির্মাণ করেছেন বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে রাতের আঁধারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি বিদ্যালয়ের ২১ একর ৭৬ শতাংশ জমির মধ্য থেকে প্রায় ৬ শতাংশ জায়গা দখল করে রাস্তা নির্মাণ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তারা বাধা দিলে উল্টো জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। জমি উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, তার নিজের জমির পেছনে অবস্থান হওয়ায় সেখানে যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা ছিল না। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে জমি কেনার বিষয়ে আলোচনা করেন। তবে প্রধান শিক্ষক জানান, ওই জমি শিক্ষা বোর্ডের সচিবের নামে থাকায় তিনি বিক্রির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন না।

কাফি দাবি করেন, পরে তিনি জানতে পারেন মোবারক পঞ্চায়েতের নাতি সালাউদ্দিন নয়ন পাহলানসহ ওয়ারিশরা দীর্ঘদিনের মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ওই জমির বিষয়ে রায় পেয়েছেন। এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে কিনে নেন এবং জমির দখল বুঝে পাওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি এমন প্রভাবশালী কেউ নই যে অন্যের জমি দখল করব। প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে জমি কিনেই রাস্তা করেছি। সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে সালাউদ্দিন নয়ন পাহলান বলেন, তার দাদা মোবারক পঞ্চায়েতের ২৯ একর জমি নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন আদালতে মামলা চলেছে। তার দাবি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমির মালিকানা প্রমাণে প্রয়োজনীয় কাগজ আদালতে উপস্থাপন করতে না পারায় পটুয়াখালী আদালত ও ঢাকা সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের জুন মাসে তাদের পক্ষে রায় দেন।

তিনি জানান, নুরুজ্জামান কাফির চলাচলের জন্য রাস্তার প্রয়োজন হওয়ায় তার কাছে ৬ শতাংশ জমি বায়না চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে এবং জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী ওই জমির প্রকৃত মালিক তারা ওয়ারিশরা এবং বর্তমানে তারা জমিটি ভোগদখল করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমির মালিকানা ও রাস্তা নির্মাণের বৈধতা নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান প্রয়োজন।

এএন