পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

বন্যাদুর্গতদের এনজিও ঋণের কিস্তি-সুদ এক মাস মওকুফ

বান্দরবান প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
বন্যাদুর্গতদের এনজিও ঋণের কিস্তি-সুদ এক মাস মওকুফ

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেছেন, বান্দরবানের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ এক মাসের জন্য মওকুফ করা হয়েছে। এ সুবিধার মেয়াদ আরও দুই-এক মাস বাড়ানোর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের রেস্টহাউসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। কোথায় কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, মানুষের জীবনযাত্রা কতটা ব্যাহত হয়েছে এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন-সে বিষয়ে তিনি নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং প্রতিনিধিদের মাঠপর্যায়ে পাঠাচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে এনে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব উদ্যোক্তার কথা বিবেচনা করে তাদের ঋণের কিস্তি ও সুদ এক মাসের জন্য মওকুফ করা হয়েছে। এ সময়সীমা আরও বাড়ানো যায় কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, একসঙ্গে সবাইকে পুনর্বাসন করা সম্ভব না হলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আগে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য ক্ষতিগ্রস্তদেরও পুনর্বাসন করা হবে।

কৃষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাদের ফসল ও কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার গবাদিপশুকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকা ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সবাই দিনরাত কাজ করছেন, যাতে বন্যাদুর্গত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

বক্তব্যের শেষদিকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, সম্প্রীতিপূর্ণ ও সমঅধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাবধী মারমা, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মো. ওয়াহাবুল ইসলাম খন্দকার, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) হাসান চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এম জি