বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দলটির একাংশের নেতারা। শনিবার বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তারা অভিযোগ করেন, নতুন কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত, দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও আওয়ামী লীগের ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন কমিটির আহ্বায়ক নুরুল আমিন।
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে বিরোধ দেখা দিয়েছে। কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির কয়েকজন নেতা ও তাঁদের অনুসারীরা।
শনিবার সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরিশাল জেলা বিএনপির দক্ষিণের সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম (সাবু)।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম রাড়ী, সাবেক সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ মন্টু খান, কাজী ফিরোজ আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা মো. রেজাউল করিমসহ সদর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
লিখিত বক্তব্যে জিয়াউল ইসলাম সাবু বলেন, ২০২২ সালে আলহাজ নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক করে সদর উপজেলা বিএনপির যে কমিটি গঠন করা হয়েছিল, সেটি নিয়ে দলীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ওঠে। পরে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি দাবি করেন, তাঁদের নেতৃত্বাধীন কমিটি বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিল। সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং কারাবরণ করেছেন। কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই আবার নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
জিয়াউল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিন সদস্যের ওই কমিটি পরবর্তী সময়ে জেলা বিএনপির সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় ছাড়াই ১২ জুলাই ১৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নেয়। নতুন কমিটিতে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নতুন কমিটির তালিকায় কয়েক মাস আগে মারা যাওয়া একজন ব্যক্তির নাম রয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন- এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ছাড়া সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে জামায়াত-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নুরুল আমিন বলেন, এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, কমিটি গঠনের আগে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তালিকা পাঠানো হয় এবং যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় নেতারা অনুমোদন দেন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এমন অভিযোগ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে কমিটি বাতিলের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তারা।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন