রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা সুমতি চাকমা। গত শনিবার সাজেক-মাচলং সড়কে বিজিবির একটি ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই আকস্মিক ও বেদনাদায়ক ঘটনায় নিভে গেছে একটি পরিবারের আলো, আর মাতৃহীন হয়ে পড়েছে আট বছর বয়সী এক অবুঝ শিশু। তবে এই চরম শোকের মুহূর্তে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ঘটনার পর সোমবার সকালে নিহত শিক্ষিকা সুমতি চাকমার স্বামী ও তাঁর ৮ বছর বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তান প্রাপ্তি চাকমাকে ডেকে আনেন বিজিবির জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, পিএসসি। জোনের কার্যালয়ে অবুঝ শিশু প্রাপ্তিকে দেখা মাত্রই জোন কমান্ডার পরম মমতায় তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং মাথায় হাত রেখে সান্ত্বনা দেন। এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় সেখানে, যেখানে বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তা নিজেই এই শোকসন্তপ্ত পরিবারের অভিভাবকের ভূমিকা নেন।
বিজিবির জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ পরিবারটিকে আশ্বস্ত করে বলেন, একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে মায়ের কোল, কিন্তু আমরা এই পরিবারটিকে একা হতে দেব না। তিনি ভবিষ্যতেও বিজিবি এই পরিবারের পাশে থাকবে এবং শিশু প্রাপ্তির শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে বলে দৃঢ় আশ্বাস ব্যক্ত করেন।
এই সান্ত্বনা ও পাশে থাকার আশ্বাসের সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান, শিক্ষা অফিসার সঞ্চায়ন চাকমা, এটিও সমরেশ চাকমা, শিক্ষক প্রতিনিধি নামতা তালুকদার, সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, ইউপি সদস্য বনবিহারী চাকমা সহ নিহত শিক্ষিকার নিকটাত্মীয় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিজিবির এই মানবিক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সাজেক ইউপি চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, তবে বিজিবি যেভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং শিশুটির ভবিষ্যৎ দেখভালের আশ্বাস দিয়েছে, তা পাহাড়ে সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পাহাড়ে সীমান্ত রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর যেকোনো বিপদে বিজিবির এমন মানবিক অংশগ্রহণ সর্বদাই প্রশংসিত। সুমতি চাকমার অকাল প্রয়াণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা হয়তো কখনো পূরণ হবার নয়, তবে বিজিবির এই মমতাময়ী ও আশ্বাসের হাত শিশু প্রাপ্তির আগামী দিনের পথচলাকে কিছুটা হলেও মসৃণ করবে এবং তাকে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জোগাবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন