চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘ ১২ বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রকল্প। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ-পূর্ব তীরে গড়ে ওঠা ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল’ (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে সোমবার (২৭ জুলাই)।
শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া এই বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিসিএল) চেয়ারম্যান।
এ সময় প্রকল্পের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে একটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। পরে সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন, প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বেজার বাস্তবায়নে প্রকল্পের আওতায় জেটি-সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন সুবিধা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য তরল শোধনাগার (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এ অবকাঠামো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকার বহন করবে।
চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি চালু হলে অন্তত ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হবে। পাশাপাশি এক লাখের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং চট্টগ্রাম আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন