বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানোর জেরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের পানেরছড়া রেঞ্জে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া বনকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন পানেরছড়া রেঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জার ও রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলম, ফরেস্ট গার্ড হুমায়ুন কবির, বাগান মালি সাইদুল ইসলাম, বাগান মালি মো. সাজিদ এবং ইআরটি সদস্য মিজানুর রহমান।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই সমিতিপাড়া এলাকায় সৃজিত বনভূমি দখল করে নির্মিত একটি অবৈধ পানের বরজ উচ্ছেদ করা হয়। একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় শিয়াপাড়া এলাকায় পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত একটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়। বন বিভাগের দাবি, এসব অভিযানের পর ক্ষুব্ধ হয়ে দখলদার ও পাহাড়খেকো চক্রের সদস্যরা সোমবার সকালে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
সোমবার সকালে পানেরছড়া রেঞ্জের আওতাধীন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা আরেকটি পানের বরজ উচ্ছেদে যান বন বিভাগের সদস্যরা। এ সময় সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তা শরিফুল আলমসহ পাঁচ বনকর্মী আহত হন।
আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পানেরছড়া রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি দখল, পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে বনভূমি দখলকারী ও পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এরই জেরে পরিকল্পিতভাবে বনকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বনভূমি রক্ষা ও বন আইন বাস্তবায়নে নিয়োজিত বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। সংগঠনটি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে।
বিএফএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বনভূমি রাষ্ট্রের সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত বনকর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলাকারী ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বনকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংগঠনটি বনভূমি দখলদার, পাহাড়খেকো ও বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বনভূমি রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে সরকারি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বন অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি বনকর্মীদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন