ক্যাশিয়ার-পিয়নের দায় স্বীকার

সাদুল্লাপুরে এজেন্ট ব্যাংক থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাত

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
সাদুল্লাপুরে এজেন্ট ব্যাংক থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাত

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটে অবস্থিত ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে গ্রাহকদের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার ও পিয়ন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযোগের দায় স্বীকার করে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ধাপেরহাট এলাকার জামালপুর গ্রামের মমদেল সরকারের পুত্র ওয়ালিউলের মালিকানাধীন ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের ক্যাশিয়ার সায়েস্তাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র সবুজ মিয়া এবং পিয়ন জামালপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের পুত্র মাহাবুর ইসলাম ২০২২ সাল থেকে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত (এফডিআর) করার নামে টাকা সংগ্রহ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই অর্থ ব্যাংকের মূল হিসাবে জমা না করে ভুয়া জমা স্লিপ ও কাগজপত্র দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, যাতে প্রতারণার বিষয়টি ধরা না পড়ে, সে জন্য অভিযুক্তরা নিয়মিতভাবে মুনাফার টাকা পরিশোধ করে আসছিলেন। গ্রাহকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে কোনো সন্দেহ সৃষ্টি হয়নি।

সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহক তাদের এফডিআরের টাকা তুলতে গেলে ক্যাশিয়ার ও পিয়ন বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে গ্রাহকরা পীরগঞ্জে ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, তাদের হাতে থাকা এফডিআরের কাগজপত্র ভুয়া এবং ব্যাংকে তাদের নামে কোনো এফডিআর হিসাব খোলা হয়নি।

বিষয়টি জানাজানি হলে যারা এফডিআর করেছেন এবং হিসাবে টাকা রেখেছিলেন, তারা নিজেদের কাগজপত্র যাচাই করে দেখেন। যাচাই-বাছাইয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৪৪ জন গ্রাহক জানতে পারেন, তাদের টাকাও একই কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের হিসাব অনুযায়ী, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা।

পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহাবুর ইসলাম অভিযোগের দায় স্বীকার করেন। এ সময় তারা গ্রাহকদের পাওনা অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নামে তাদের ব্যক্তিগত হিসাবের চেক প্রদান করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, যেহেতু গ্রাহকদের নামে ব্যাংকের মূল সিস্টেমে কোনো এফডিআর হিসাব নেই, তাই ব্যাংক এ অর্থের দায়ভার নেবে না। ব্যাংকের দাবি, দায়ভার সম্পূর্ণভাবে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং যারা তা স্বীকার করেছেন, তাদের ওপর বর্তায়। তবে প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আইনগত বা তথ্যগত সহযোগিতা দিতে ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি ধাপেরহাট ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলেও রাতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

এএন