জাতীয় জুডো-কারাতে চ্যাম্পিয়ন ছালুয়া ফজলে রাব্বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জাহিন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
জাতীয় জুডো-কারাতে চ্যাম্পিয়ন ছালুয়া ফজলে রাব্বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জাহিন

জাতীয় পর্যায়ের জুডো-কারাতে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন নুসরাত তাবাসসুম (জাহিন)। তিনি বর্তমানে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ছালুয়া ফজলে রাব্বি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের সন্তান জাহিন ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছেন।

জানা গেছে, ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় প্রথমে রংপুর বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পান তিনি। পরে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা ও পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।

জাহিন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আমের আলীর পরিবারের উত্তরসূরি। তিনি গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ও মোছা. রুজিফা খাতুন দম্পতির জ্যেষ্ঠ কন্যা। পরিবারের উৎসাহ, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং নিজের নিরলস প্রচেষ্টায় তিনি একের পর এক সাফল্য অর্জন করে চলেছেন।

জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন জাহিন। গত বছর বাংলাদেশ জুডো-কারাতে ফেডারেশনের হয়ে আন্তর্জাতিক জুডো-কারাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ভুটানের এক প্রতিযোগীকে পরাজিত করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মতে, জাহিনের এই অর্জন শুধু বড়খাতা ইউনিয়ন বা ফুলছড়ির নয়, এটি লালমনিরহাট, গাইবান্ধাসহ সমগ্র দেশের গর্ব। তার সাফল্য প্রমাণ করেছে, সুযোগ ও পরিশ্রম থাকলে গ্রাম থেকেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ উঠে আসতে পারেন।

জাহিনের এই কৃতিত্বে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে, যাতে তিনি ভবিষ্যতেও দেশের জন্য আরও সাফল্য বয়ে আনতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরতে সক্ষম হন।

এম জি