মানহানির মামলায় জামিন পেলেন কঙ্গনা

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২৫, ১০:৪১ এএম
মানহানির মামলায় জামিন পেলেন কঙ্গনা

বাথিন্ডা আদালতে হাজিরার পর বলিউড অভিনেত্রীর বক্তব্য, ‘ভুলবশত রিটুইট করেছি, কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না’

বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাউত সোমবার পাঞ্জাবের বাথিন্ডা আদালতে হাজিরা দেন এবং বয়স্ক নারী কৃষক মহিন্দর কৌর-এর দায়ের করা মানহানির মামলায় জামিন পান। ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের সময় কঙ্গনা তাঁর এক টুইটে মহিন্দর কৌরকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

আদালতে হাজিরা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে জনান, এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। আমি শুধুমাত্র একটি মিম রিটুইট করেছিলাম, কাউকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমি মহিন্দর কৌরের স্বামীর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি, কারণ আজ তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

তবে অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী রঘুবীর সিং বেহনিওয়াল কঙ্গনার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমার মক্কেল বা তাঁর স্বামী কেউই বলেননি যে কঙ্গনা আগে কখনো ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আদালতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে স্থায়ী ছাড় চেয়েছেন, যা আমরা আপত্তি জানিয়েছি।

আদালত মামলাটি বর্তমানে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট (বিশেষ আদালত)-এ স্থানান্তর করেছে। পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ নভেম্বর।

এর আগে গত মাসে আদালত কঙ্গনার ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন খারিজ করে দেন এবং ২৭ অক্টোবর তাঁকে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।

সোমবার কঙ্গনা কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে পৌঁছান। বাথিন্ডার পুলিশ সুপার নরিন্দর সিং জানান, আদালত প্রাঙ্গণে বাধা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বলয় জোরদার করা হয়েছিল, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

এই মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালে, যখন কৃষক আন্দোলনের সময় কঙ্গনা এক টুইটে মহিন্দর কৌরের ছবি ব্যবহার করে তাঁকে দিল্লির শাহিনবাগের প্রবীণ প্রতিবাদী নারী বিলকিস বানো-র সঙ্গে তুলনা করেন। তাঁর টুইটে দাবি করা হয়, এ ধরনের নারীরা ‘১০০ টাকায় ভাড়া করা যায়’ যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এই মন্তব্যে মর্যাদা ক্ষুণ্ণের অভিযোগ এনে মহিন্দর কৌর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মানহানির মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বাথিন্ডা আদালত কঙ্গনাকে তলব করে। কঙ্গনা এরপর পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বাতিলের আবেদন করেন, তবে দুই আদালতই তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।

উল্লেখ্য, গত বছর চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক মহিলা সিআইএসএফ কনস্টেবল কঙ্গনাকে চড় মেরে বসেন, কৃষক আন্দোলনকে নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে।

জেএইচআর