বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান শুধু অভিনয়জীবনেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও তাঁর পরিমিত ভাবনা ও সৌজন্যের জন্য পরিচিত। সাবেক দুই স্ত্রী রীনা দত্ত ও কিরণ রাও দুজনের সঙ্গেই তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তিনি বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন।
সেই সম্পর্কেরই আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেল সম্প্রতি, যখন আমির খান হঠাৎ করেই সাবেক স্ত্রী রীনা দত্তের চিত্রপ্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়ে তাকে চমকে দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীনা নিজেই শেয়ার করেছেন সেই মুহূর্তের ছবি এবং কৃতজ্ঞতার বার্তা। ভক্তদের কাছে এটি পরিণত হয়েছে আলোচনার অন্যতম সুখবর।
গত শুক্রবার রীনা দত্ত তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একাধিক ছবি পোস্ট করেন। ছবিগুলোতে দেখা যায়, মুম্বাইয়ের নেহরু সেন্টার আর্ট গ্যালারিতে তাঁকে অবাক করতে স্বয়ং আমির খান উপস্থিত হয়েছেন। রীনা লিখেছেন, যখন আপনার প্রাক্তন হঠাৎ হাজির হয় এবং আপনার প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকে। আমার শিল্পযাত্রায় অবিচল সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ আমির।
তিনি আরও জানান, তাঁর ‘ড্রপলেটস অফ পেইন্ট’ এবং ‘চিত্রসূত্র আর্ট অ্যাকাডেমি’-র প্রদর্শনী ১৮ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার ঝড় ওঠে। অনেকেই মন্তব্য করেন, বিচ্ছেদের পরেও এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বলিউডে বিরল। কেউ কেউ লেখেন, পরিপক্ব সম্পর্কের সেরা উদাহরণ, আবার কেউ বলেন, আমির সত্যিই একজন ভদ্র মানুষ।
ছবিতে দেখা যায়, আমির খান সবুজ রঙের একটি কুর্তা এবং তার ওপর কালো নেহরু জ্যাকেট পরে প্রদর্শনীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে রীনার আঁকা নানা চিত্রকর্ম পর্যবেক্ষণ করছেন এবং অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করছেন। ক্যামেরার সামনে না দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে রীনার কাজকে দেখার চেষ্টা করেন তিনি। তাঁর উপস্থিতি রীনার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি তাঁর শিল্পযাত্রার প্রতি এটি এক বড় সম্মান। আমির বরাবরই নিজের ব্যক্তিগত জীবনে অযথা আলোড়ন পছন্দ করেন না। তবে প্রিয়জনের পাশে দাঁড়াতে তিনি কখনোই কার্পণ্য করেন না। রীনার শিল্পযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি সময়ে সময়ে তাঁকে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না।
রীনার পোস্টের মন্তব্য বিভাগে আমিরের ভক্তরা আবেগ প্রকাশ করেছেন। একজন লিখেছেন, যে সম্পর্ক ভেঙে যায়, বন্ধুত্ব কেন ভাঙবে? দারুণ উদাহরণ। কেউ মন্তব্য করেছেন, একজন মানুষের মানবিক দিকই তাকে বড় করে তোলে। আমির সেই মানুষ। অনেকেই রীনার শিল্পকর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, তাঁরা গ্যালারিতে গিয়ে প্রদর্শনী দেখতে চান। আমির এবং রীনার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যে ইতিবাচক আবহ তৈরি হয়েছে, সেটি অনেকের মনেই পরিবারের মূল্যবোধ ও সৌহার্দ্যের প্রতি নতুন উপলব্ধি তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, আমির খান ও রীনা দত্ত ১৯৮৬ সালে বিয়ে করেন এবং তাঁদের দুটি সন্তান জুনাইদ ও ইরা। ২০০২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হলেও দুজনই পরস্পরকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী হিসেবে সম্মান করে আসছেন। বিশেষ করে সন্তানদের বিষয়ে তাঁরা সবসময় একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন। নতুন প্রকল্প, ব্যক্তিগত উদ্যোগ বা পারিবারিক অনুষ্ঠান প্রয়োজন হলে উভয়কেই একসঙ্গে দেখা যায়। রীনা দত্ত গত কয়েক বছর ধরে চিত্রশিল্পে গভীরভাবে যুক্ত। নিজের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘চিত্রসূত্র আর্ট অ্যাকাডেমি’ চালু করে তিনি নতুন শিল্পী তৈরির কাজে ব্যস্ত। তাঁর সাম্প্রতিক প্রদর্শনীতে মৌলিক চিত্রকর্ম, রঙের খেলায় বিমূর্ত ভাবনা, জলরঙের নরম ছটায় জীবনের গল্প ফুটে উঠেছে।
আমিরের এই আচরণ শুধু রীনার জন্যই নয়, বর্তমান সমাজে সম্পর্কের ধরন নিয়ে যাঁরা হতাশ, তাঁদের জন্যও এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বিচ্ছেদের পর সম্পর্ক কীভাবে শ্রদ্ধা, সমর্থন ও মানবিকতায় টিকে থাকতে পারে তার একটি সুন্দর উদাহরণ হয়ে উঠেছে তাঁদের এই মুহূর্ত। রীনা পোস্টের শেষে সবার উদ্দেশে আহ্বান জানান, যে কেউ চাইলে প্রদর্শনীতে এসে তাঁদের শিল্পকর্ম উপভোগ করতে পারেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন