বিনোদন জগতের একসময়ের ‘ওপেন সিক্রেট’ প্রেম আজ পূর্ণতা পাচ্ছে। ঢাকার আমিনবাজারের নিভৃত এক রিসোর্টে আজ উৎসবের আমেজ। ঢাকাই শোবিজের আধুনিক পপ ঘরানার গায়িকা জেফার রহমান এবং তুখোড় উপস্থাপক রাফসান সাবাব আজ সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন। দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজন এবং শোবিজের অল্প কিছু সহকর্মীর উপস্থিতিতে এই বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজকের দিনটি দুই ভাগে বিভক্ত। সকালের স্নিগ্ধ রোদে এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে জেফার ও রাফসানের গায়েহলুদ ও মেহেন্দির অনুষ্ঠান। ঘরোয়া ঢঙে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কেবল দুই পরিবারের সদস্যরাই উপস্থিত ছিলেন। আর সন্ধ্যার গোধূলি লগ্নে বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় শোবিজের একঝাঁক তারকা থাকার কথা থাকলেও আয়োজনটি বেশ ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আমিনবাজারের সেই রিসোর্টটি এখন তারকাদের মিলনমেলায় পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়।
জেফার ও রাফসানের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। গত এক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিনোদন পাড়ায় তাঁদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা কথা চালু ছিল। কখনও থাইল্যান্ডের সমুদ্রসৈকতে তাঁদের একসঙ্গে ছবি দেখা গেছে, কখনও বা ঢাকার বিভিন্ন ক্যাফেতে তাঁদের সময় কাটাতে দেখা গেছে।
তবে যখনই গণমাধ্যম বা ভক্তরা তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তখনই একটি ক্লিশে উত্তর এসেছে—‘আমরা শুধু ভালো বন্ধু’। জেফার রহমান বরাবরই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে ক্যামেরার আড়ালে রাখতে পছন্দ করেন। তিনি বিভিন্ন সময় বলেছেন, ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আনা আমার পছন্দ নয়। কিন্তু সেই ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ আজ সবার সামনে আসতে চলেছে এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে থাইল্যান্ডে এই জুটির একটি ভ্রমণের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছবিতে দুজনকে বেশ সাবলীল ও ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে দেখা গিয়েছিল। ভক্তদের কাছে তখন থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, তাঁদের সম্পর্ক কেবল পেশাগত বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যদিও সে সময় জেফার কোনো মন্তব্য না করে রহস্য জিইয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু ঘনিষ্ঠ মহলে তখনই বিয়ের কথা উঠতে শুরু করে।
উপস্থাপক রাফসান সাবাবের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী চিকিৎসক সানিয়া এশার সঙ্গে তিন বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাফসান লিখেছিলেন, অনেক ভেবেচিন্তেই এই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটিই ছিল সম্মানজনক পথ। সেই বিচ্ছেদের কিছুকাল পরেই জেফারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা শুভ পরিণয়ের দিকে এগোয়।
বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করতে আজ সকালে জেফার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বরাবরের মতোই নিরবতা পালন করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। অন্যদিকে রাফসান সাবাবও বিয়ের এই মহেন্দ্রক্ষণকে একান্তই পারিবারিক রাখতে চাচ্ছেন। তবে তাঁদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকার-ইঙ্গিতে আজকের এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করছেন।
জেফার ও রাফসানের বিয়ের খবর শোবিজ অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। অনেকে তাঁদের অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং মনে করছেন এই জুটি একে অপরের জন্য দারুণ মানানসই। জেফারের কণ্ঠের জাদুতে যেমন নতুনত্বের ছোঁয়া থাকে, তেমনি রাফসানের উপস্থাপনাতেও রয়েছে পরিশীলিত ভাব। দুই সৃজনশীল মানুষের এক হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংস্কৃতি কর্মীরা।
ঢাকার ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে আমিনবাজারের একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে বিয়ের ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছে। শীতের সন্ধ্যায় খোলা আকাশের নিচে আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ভেন্যুতে বসবে তাঁদের বাসর। শোবিজের প্রভাবশালী পরিচালক, সংগীতশিল্পী ও উপস্থাপকদের একটি বড় অংশ বিকেলের পর থেকেই সেখানে জমায়েত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জীবন কখনও কখনও ছবির মতো সুন্দর গল্পের মধ্য দিয়ে এগোয়। জেফার ও রাফসানের ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই ঘটল। গুঞ্জন, বিতর্ক আর আড়চোখে দেখার দিন শেষ করে তাঁরা আজ সমাজ ও পরিবারের সম্মতিতে এক হতে যাচ্ছেন। বিনোদন জগতের এই নতুন দম্পতি আগামী দিনেও তাঁদের শিল্পকর্মে যেমন চমক দেখাবেন, তেমনি তাঁদের ব্যক্তিজীবনেও সুখ ও শান্তি বজায় থাকুক—এমনটাই কাম্য তাঁদের ভক্তদের।
রাত পোহালেই হয়তো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসবে তাঁদের বিয়ের রঙিন ছবি। তবে তার আগেই শুভকামনার বন্যায় ভাসছেন জেফার ও রাফসান।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন