বলিউডের প্রভাবশালী নির্মাতা বিক্রম ভাট এবং তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাটের আইনি জটিলতা আরও প্রকট হলো। ৩০ কোটি রুপির আর্থিক জালিয়াতির মামলায় রাজস্থানের একটি আদালত এই তারকা দম্পতির জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। ফলে আপাতত উদয়পুরের জেল হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
শনিবার রাজস্থানের উদয়পুর আদালতের বিচারক বিনোদ কুমার ভারওয়ানি এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিক্রম ও শ্বেতাম্বরীর কারাবাস আরও দীর্ঘায়িত হলো।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের এপ্রিল মাসে। রাজস্থানের প্রখ্যাত ‘ইন্দিরা আইভিএফ’ হাসপাতালের মালিক চিকিৎসক ডা. অজয় মুরদিয়া তাঁর স্ত্রীর জীবনীর ওপর ভিত্তি করে একটি বায়োপিক নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি দিনেশ কাটারিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করেন বিক্রম ভাটের সঙ্গে।
মুম্বাইয়ের বৃন্দাবন স্টুডিওতে আয়োজিত এক বৈঠকে বিক্রম ভাট এবং তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ডা. অজয়কে আশ্বস্ত করেন যে, তাঁরা একটি দুর্দান্ত চলচ্চিত্র উপহার দেবেন। কেবল চলচ্চিত্র নির্মাণই নয়, এই প্রজেক্ট থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি আয় হবে—এমন লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. অজয়ের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ হাতিয়ে নিতে শুরু করেন তাঁরা।
বায়োপিক নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়ায় এবং অর্থ ফেরত পেতে জটিলতা তৈরি হলে ডা. অজয় বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৭ ডিসেম্বর রাজস্থান ও মুম্বাই পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বিক্রম ভাট ও তাঁর স্ত্রীসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, বায়োপিক নির্মাণের অজুহাতে ডা. অজয়ের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ কোটি রুপি হাতিয়ে নিয়েছেন এই দম্পতি এবং তাঁদের সহযোগীরা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো সঠিক হিসাব বা কাজ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাঁদের জামিন দিতে অস্বীকৃতি জানান।
বিচারপতি বিনোদ কুমার ভারওয়ানি তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, আর্থিক জালিয়াতির এই অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর সাথে আরও কয়েকজন অভিযুক্ত জড়িত। মামলার প্রাথমিক তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হলে তথ্য-প্রমাণ লোপাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁদের জেল হেফাজতেই রাখা প্রয়োজন।
উপসংহার: হরর মুভির জন্য বিখ্যাত বিক্রম ভাট এবার বাস্তবের এক জটিল অপরাধ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত হয়েছেন। এই মামলাটি কেবল বিনোদন জগতেই নয়, বরং রাজস্থানের চিকিৎসা মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ৩০ কোটি রুপির এই জালিয়াতি মামলা এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন