কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই
কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে

ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। রোববার দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আগামী সোমবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৩৩ সালে সঙ্গীতপ্রেমী মঙ্গেশকর পরিবারে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলে মাত্র ৯ বছর বয়সেই পেশাদার সংগীত জীবনে প্রবেশ করেন। ১৯৪৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে গান রেকর্ড করার মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়, এরপর ১৯৫০-এর দশকে বলিউডে নিজস্ব শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন তিনি।

বড় বোন লতা মঙ্গেশকর–এর ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব গায়কী ও বৈচিত্র্যময় পরিবেশনার মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন তিনি। শুরুতে ক্যাবারে ও চটুল গানের জন্য টাইপকাস্ট হলেও পরবর্তীতে গজল, ধ্রুপদী ও আধুনিক সব ধারার গানে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন এই শিল্পী।

‘উমরাও জান’ চলচ্চিত্রের ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ এবং ‘ইজাজত’-এর ‘মেরা কুছ সামান’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাকে এনে দেয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি সাতবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তার পথচলা ছিল ঘটনাবহুল ও নাটকীয়। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি নিজের ব্যক্তিগত সচিব গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে পারিবারিক ও দাম্পত্য অস্থিরতার কারণে ১৯৬০ সালে তিনি সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন।

পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সংগীত পরিচালক আর ডি বর্মণের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক ১৯৯৪ সালে আর ডি বর্মণের মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়।

জীবনের শেষ সময়গুলোতে নাতনি জেনাই ভোঁসলে ছিলেন তার পাশে। তার প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল বলে শোক প্রকাশ করেছেন সংগীতাঙ্গনের অনেকে।

এএন