গত ২৪ এপ্রিল, শুক্রবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো জমকালো ‘মিজাফ স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’। দেশের মিডিয়া অঙ্গনের তারকাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। সভাপতিত্ব করেন মিজাফের সভাপতি সাইদ মাহমুদ।
পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত করে তোলেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক ডি. এম. সাকলায়েন। তাঁর সাবলীল, ছন্দময় ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। ছোট ছোট কথামালা ও ছন্দে ভরা উপস্থাপনায় তিনি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা- ফেরদৌস আরা, রবি চৌধুরী, শাহনাজ বেলী, পিয়াল হাসান, জ্যাকশন ফারুক, আফরিন সুলতানা ও দিঠি আনোয়ার। এছাড়া কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সোহেল ইমরোজ। নাচ, গান ও কবিতার সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর।
ডি. এম. সাকলায়েন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সফলভাবে উপস্থাপনা করে আসছেন। নায়কোচিত ব্যক্তিত্ব ও সাবলীল উপস্থাপনা তাঁর বিশেষ পরিচয়। ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ার প্রতি গভীর আগ্রহ থেকেই তাঁর এই পথচলা শুরু।
তিনি ২০০৯ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঘোষক হিসেবে এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হন। এর আগে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ বেতারে নাট্যশিল্পী ও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে “দর্পণ” যুক্ত হন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে সালেক খানের প্রশিক্ষণে অভিনয়ের কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন এবং প্রাচ্যনাট গ্রুপেও নাট্যচর্চা করেন।
পাবনা জেলার সন্তান সাকলায়েন জন্মগ্রহণ করেন ৫ অক্টোবর। ভ্রমণপ্রিয় এই মানুষটি ইতোমধ্যে কাতার, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেছেন। তিনি কবিতা, গান ও ভ্রমণ কাহিনী লিখতেও ভালোবাসেন।
শিক্ষাজীবনে বি.কম (অনার্স) ও এম.কম (ব্যবস্থাপনা) সম্পন্ন করে মার্কেটিং-এ এমবিএ অর্জন করেছেন। বর্তমানে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ব্যস্ততার মধ্যেও কাজের প্রতি তাঁর নিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করি এবং মনোযোগ দিয়ে কাজ করি, তাই পরিশ্রম বলে মনে হয় না।
পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন মানবসেবী মানুষ হিসেবেও পরিচিত। সেচ্ছাসেবামূলক সংগঠনের ‘জনস্বার্থ ফাউন্ডেশন’ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যতে মিডিয়াতে আরও সফলভাবে এগিয়ে যেতে চান ডি. এম. সাকলায়েন, বিশেষ করে উপস্থাপনাকেই তিনি নিজের সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা হিসেবে দেখছেন।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন