জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কারিনা কায়সার ছিলেন এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। শনিবার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লবে রাজপথের সহযোদ্ধা, বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও চিত্রনাট্যকার কারিনা কায়সারের অকাল প্রয়াণে তাঁরা গভীরভাবে শোকাহত। লিভারের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের দিনগুলোতে কারিনা কায়সার অন্যায়ের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তাঁর আপসহীন ও সাহসী অবস্থান চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর এই আকস্মিক চলে যাওয়া দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি করল। নাহিদ ইসলাম মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় বেশ কয়েক দিন ধরে সংকটাপন্ন ছিলেন কারিনা। প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন কারিনা কায়সার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা তরুণ দর্শকদের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরবর্তীতে ওটিটি ও নাটকের জগতেও নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। কারিনা কায়সারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিনোদন অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন