ঢাকায় জন্ম নেয়া বলিউডের কিংবদন্তি গায়িকার মৃত্যু 

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ঢাকায় জন্ম নেয়া বলিউডের কিংবদন্তি গায়িকার মৃত্যু 

ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত গায়িকা সুমন কল্যাণপুর আর নেই। গত রোববার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের লোখান্ডওয়ালার নিজ বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু লেখক মঙ্গলা খাদিকর জানান, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই জীবনের শেষ সময়ে বিদায় নেন তিনি; যার শেষ দিনগুলো কেটেছিল নিজেরই গাওয়া কালজয়ী গানগুলো শুনে।

বাংলা ও হিন্দি গানের শ্রোতাদের কাছে এক অতি পরিচিত নাম সুমন কল্যাণপুর। ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত ভারতের ঢাকায় জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পারিবারিক শিকড় মূলত কর্ণাটকে এবং তাঁর আদি পদবি ছিল ‘হেমাডি’। 

বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে ঢাকায় শৈশব কাটলেও দেশভাগের পর তাঁরা সপরিবারে মুম্বাইয়ে চলে যান। সেখানে ধ্রুপদি সংগীতে তালিম নেওয়ার পর শুরু হয় তাঁর পেশাদার সংগীতজীবন। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি ও ওড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি ভাষায় তাঁর কণ্ঠের জাদু শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে।

দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে লতা মঙ্গেশকরের সমসাময়িক হিসেবে তিনি নিজের এক অনন্য কণ্ঠশৈলী তৈরি করেছিলেন। ‘মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে’ গানের মাধ্যমে যেমন তিনি বাঙালি শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন নেন, তেমনি হিন্দি চলচ্চিত্রের ‘আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চর্চে’, ‘না না করতে প্যায়ার তুমহি সে’ কিংবা ‘ব্রেকিং নিউজ’ হয়ে থাকা ‘তুমনে পুকারা অউর হাম চলে আয়ে’ গানগুলো আজও সমান জনপ্রিয়।

সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য ভারত সরকার তাঁকে সম্মানজনক ‘পদ্মভূষণ’ পদকে ভূষিত করে। তাঁর এই মহাপ্রয়াণে ভারতের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

শোকবার্তায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস উল্লেখ করেন, সুমন কল্যাণপুরের চলে যাওয়া ভারতীয় সংগীতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হলেও তাঁর অমর সুরগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে সংগীতের একটি স্বর্ণালি যুগের অবসান ঘটল।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে 

এএন