‘ধর্ষণ থামাতে পারে না, সিনেমা ঠিকই থামাতে পারে’

বিনোদন ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
‘ধর্ষণ থামাতে পারে না, সিনেমা ঠিকই থামাতে পারে’
অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। ছবি : ফেসবুক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি রাষ্ট্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হঠাৎ স্থগিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তুমুল ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার এই সেন্সরশিপ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক।

সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি প্রশাসনের দ্বিমুখী নীতি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি ইঙ্গিত করেন যে, সমাজে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যেখানে প্রশাসনের নানা সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা চোখে পড়ে, সেখানে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা বা সিনেমা বন্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের তৎপরতা ও পদক্ষেপ অত্যন্ত দ্রুত। অভিনেত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য মুহূর্তেই অনলাইন দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বিতর্কের সূত্রপাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের নির্ধারিত দুটি প্রদর্শনী আকস্মিক বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে। প্রদর্শনীর আয়োজকদের দাবি, তারা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব অনুমতি নিয়েই যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতিপয় মহলের আপত্তির মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দেওয়া পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করে নেয়।

একই জেলার আরেকটি অঞ্চলেও স্থানীয় উদ্যোগে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল, যা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। একের পর এক প্রদর্শনী বাতিলের এই ঘটনায় স্থানীয় চলচ্চিত্রপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও শিল্পী সমাজের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একাধিক প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন যৌথভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, সেন্সর বোর্ডের রাষ্ট্রীয় অনুমোদন থাকা একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী এভাবে মাঝপথে বাধাগ্রস্ত হওয়া মুক্তবুদ্ধি ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক একটি বার্তা।

সংগঠনগুলো তাদের বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে শিল্প, সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ঐতিহ্যবাহী একটি চারণভূমি। সেই জেলার মাটিতেই একটি আইনি ও বৈধ চলচ্চিত্র প্রদর্শন নিয়ে এমন বিতর্ক ও নিষেধাজ্ঞা তৈরি হওয়া চরম হতাশাজনক। তারা অবিলম্বে শিল্প-সংস্কৃতির অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে রুকাইয়া জাহান চমকের এই সাহসী ও স্পষ্ট মন্তব্য জেলা ছাড়িয়ে পুরো বিষয়টিকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা মনে করছেন, শিল্পচর্চার ক্ষেত্রকে এভাবে সংকুচিত না করে মতের ভিন্নতাকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করার সামাজিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

এএন