চুরির অপরাধে ৪ জনের হাত কেটে দিলো তালেবান

মো. মাসুম বিল্লাহ প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২৩, ০৫:২৩ পিএম
চুরির অপরাধে ৪ জনের হাত কেটে দিলো তালেবান

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার বিরোধীতা সত্ত্বেও অপরাধীদের প্রকাশ্যে শাস্তি অব্যাহত রেখেছে তালেবান সরকার। সর্বশেষ সমকামিতা এবং ডাকাতির অপরাধে দেশটির কান্দাহারের আহমাদ শাহি স্টেডিয়ামে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ৯ জনকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া হয়।

শুধুমাত্র বেত্রাঘাত নয়, প্রকাশ্যে কেটে নেওয়া হয় চারজনের হাত। খবর এনডিটিভি।

টলো নিউজের টুইট অনুযায়ী, দেশের সুপ্রিম কোর্ট একটি বিবৃতিতে বলেছে, কান্দাহারের আহমদ শাহী স্টেডিয়ামে ডাকাতি এবং সমকামিতার অভিযোগে ৯ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শাস্তির দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার জন্য কান্দাহারের বাসিন্দা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।

কান্দাহারের প্রাদেশিক গভর্নরের মুখপাত্র হাজি জায়েদ জানান, দোষীদের ৩৫ থেকে ৩৯ বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে।

এদিকে চারজনের হাত কেটে নেওয়ার বিষয়টি টুইটের মাধ্যমে সামনে আনেন আফগান পুনর্বাসন এবং যুক্তরাজ্যের শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রীর প্রাক্তন উপদেষ্টা শবনম নাসিমি।

তিনি বলেন, ন্যায্য বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই আফগানিস্তানে মানুষকে বেত্রাঘাত করা হচ্ছে, হাত কেটে ফেলা হচ্ছে এবং মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে অবিলম্বে চাবুক মারা এবং সব ধরনের কঠোর, অবমাননাকর শাস্তি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে বলেছে, ১৮ নভেম্বর ২০২২ সাল থেকে তালেবান কর্তৃপক্ষ তাখার, লোগার, লাঘমান, পারওয়ান এবং কাবুল সহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে ১০০ জনেরও বেশি নারী ও পুরুষ উভয়ের ওপর বেত্রাঘাত চালিয়েছে।

চুরি, অবৈধ সম্পর্ক বা সামাজিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত অপরাধীদের প্রত্যেককে ২০ থেকে ১০০ বার বেত্রাঘাত করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে স্টেডিয়ামে চাবুক মারা হয়েছে তাদের।

৭ ডিসেম্বর, ২০২২-এ, তালেবানরা ফারাহ শহরে একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা ২০২১ সালে তালেবানদের ক্ষমতা দখলের পর প্রথম প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে যোগ করা হয়, ১৩ নভেম্বর, ২০২২ এ সুপ্রিম লিডার বিচার বিভাগকে হুদুদ (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অপরাধ) এবং কিসাস (প্রতিশোধ) কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়ার পরে এই ধরণের কঠোর শাস্তির প্রয়োগ শুরু হয়।

প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত, মৃত্যুদণ্ড নির্যাতন মানবাধিকারের সার্বজনীন নীতি লঙ্ঘন করে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আমরা এই শাস্তির আগে বিচারের ন্যায্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছি, যা মৌলিক ন্যায্য বিচার সম্পর্কে প্রশ্নের উদ্রেক করে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এই ধরনের নিষ্ঠুর সাজা, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ নিষিদ্ধ বলে বিবেচনা করে। একজন মানুষ অপরাধী হলেও সে মর্যাদা এবং সম্মানের অধিকারী।

এআরএস