বুলগেরিয়ায় পরিত্যক্ত ট্রাকে ১৮ মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৩, ১০:২৩ এএম
বুলগেরিয়ায় পরিত্যক্ত ট্রাকে ১৮ মরদেহ
বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার কাছে পরিত্যক্তে এই ট্রাকটি খুঁজে পাওয়া যায়

বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার কাছে একটি পরিত্যক্ত ট্রাক থেকে কমপক্ষে ১৮ জনের মরদেহ এবং বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এসব উদ্ধারকৃতদের নাগরিকত্ব জানানো হয়নি।

শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিত্যক্ত ওই ট্রাকটিতে প্রায় ৪০ জন অভিবাসীকে অবৈধভাবে পরিবহন করা হচ্ছিল। এই ঘটনায় উদ্ধারকৃত জীবিতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়া থেকে ১২ মাইল (২০ কিমি) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত লোকরস্কো গ্রামের কাছে পরিত্যক্ত ওই ট্রাকটি খুঁজে পাওয়া যায়। এই ট্রাকটি কাঠের নিচে লুকিয়ে থাকা অভিবাসীদের অবৈধভাবে পরিবহন করছিল বলে বলকান এই রাষ্ট্রটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বুলগেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসান মেদঝিদিভ ট্রাকের ভেতরের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, এই ট্রাকে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকা ব্যক্তিরা অক্সিজেনের সংকটে ছিল। ঠান্ডায় তারা জমে ছিল, ভেজা অবস্থায় ছিল, তারা বেশ কয়েক দিন ধরে কিছুই খায়নি।

ট্রাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায় ১৪ জনকে। তাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা গুরুতর এবং পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া আরও ১০ জনকে আশপাশে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পরীক্ষার জন্য তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন আসান মেদঝিদিভ।

এটিকে বুলগেরিয়ায় অভিবাসীদের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে মারাত্মক ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

তুরস্ক থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের চেষ্টা করে থাকেন। এ কাজে তারা রুট হিসেবে বুলগেরিয়াকে ব্যবহার করে থাকে। আর তাই বুলগেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে তুরস্ক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের চেষ্টাকারী বিপুল সংখ্যক লোককে ঠেকাতে কার্যত লড়াই করছে।

তুরস্ক থেকে প্রবেশের চেষ্টাকারী লোকদের সঙ্গে অমানবিক ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে। আশ্রয়প্রার্থীদের অভিযোগ, দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টার সময় তাদের আটকে দেওয়া ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি আশ্রয়প্রার্থীদের মালামাল কেড়ে নেওয়া এবং মারধর করার অভিযোগের সম্মুখীনও হয়েছে বুলগেরিয়া।

এআরএস