গ্যাবনে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল

মো. মাসুম বিল্লাহ প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৩, ০৪:৩২ পিএম
গ্যাবনে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল

মধ্য আফ্রিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আলী বোঙ্গো ওনদিম্বাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। আলী বোঙ্গো মাত্র গত শনিবার তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনের চারদিন পরই তাকে উৎখাত করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ আগস্ট) ভোরবেলা সেনা কর্মকর্তাদের একটি দল দেশটির জাতীয় টেলিভিশনের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে তারা ঘোষণা দেন, শনিবারের ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ফলে এ নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। সঙ্গে সংবিধান বাতিল ও দেশের সীমান্তও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

যেই আলী বোঙ্গো ওনদিম্বাকে উৎখাত করা হয়েছে তার পরিবার দীর্ঘ ৫৬ বছর ধরে গ্যাবনকে শাসন করেছে। আর বুধবার আলী বোঙ্গোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সাধারণ মানুষকে উল্লাস করতে দেখা গেছে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বোঙ্গো গ্যাবনিস ড্যামোক্র্যাটিক পার্টির (পিডিজি) ব্যানারে নির্বাচন করেছিলেন। এই দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তার বাবা ওমর বোঙ্গো। তিনি ১৯৬৭ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত গ্যাবনকে শাসন করেন। ওই বছর তার মৃত্যুর পর, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলী বোঙ্গো ওনদিম্বা প্রেসিডেন্ট হন। এরপর থেকে তিনিই ক্ষমতায় রয়েছেন।

তার বাবা গ্যাবনকে শাসন করেছেন প্রায় ৪২ বছর। অপর দিকে ক্ষমতাচ্যুত আলী বোঙ্গো মধ্য আফ্রিকার এ দেশটিকে প্রায় ১৪ বছর শাসন করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ভোরের আলো ফোটার পর সাধারণ মানুষ যখন অভ্যুত্থানের বিষয়ে জানতে পারেন তখন থেকেই তারা রাস্তায় বের হয়ে আসা শুরু করেন এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

দেশটির রাজধানী লিভরেভিলেতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গাড়ি দেখে সাধারণ মানুষকে অভিবাদন দিতে দেখা গেছে।

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ক্যাথরিন সোই জানিয়েছেন, তারা জানতে পেরেছেন গ্যাবনে রাস্তায় নেমে আসছেন সাধারণ মানুষ।

তিনি বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা শুনতে পাচ্ছি মানুষ তাদের বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন, তারা রাস্তায় আসছেন, তাদের অনেকে উল্লাস করছেন।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা শুনতে পেয়েছি যেসব সেনা কর্মকর্তা অভ্যুত্থানের ঘোষণা দিয়েছেন তারা কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছেন। আমরা জানি না প্রেসিডেন্ট কোথায় আছেন। অভ্যুত্থানকারীরা কি প্রেসিডেন্টকে আটকে রেখেছেন কিনা সেটি নিশ্চিত নয়।’

এদিকে গত শনিবার নির্বাচনের পরপর গ্যাবনে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। অভ্যুত্থানের পরই সেই ইন্টারনেট আবারও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চীন-ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়া

গ্যাবনে সেনা অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন ও ফ্রান্স। চীন বলেছে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া স্থিতিশীলতা ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

অপরদিকে ফ্রান্স বলেছে, গ্যাবনে যে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে সেদিকে তারা গভীর নজর রাখছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আরএস