ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির ব্যক্তিগত গুণাবলির প্রশংসা করলেও দেশটির শাসনভার গ্রহণ বা জনসমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে তার সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাহলভি একজন চমৎকার মানুষ হলেও ইরানের ভেতরের মানুষ তাকে নেতা হিসেবে মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, ইউক্রেন সংকট এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব মন্তব্য করেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং এর ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান ধর্মীয় সরকারের পতন হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে সেই শূন্যস্থানে রেজা পাহলভি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা নিয়ে তিনি দ্বিধাগ্রস্ত। উল্লেখ্য যে, পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরান ত্যাগ করেছিলেন এবং বর্তমানে প্রবাসে থেকে বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এখনো পরীক্ষিত নয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনই পাহলভিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় এর পতন ঘটতে পারে। তিনি বলেন, সামনের দিনগুলো সারা বিশ্বের জন্য বেশ কৌতূহলোদ্দীপক হতে চলেছে। যদিও গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পাহলভির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই, তবুও রয়টার্সকে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য পাহলভির নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে আরও বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিল। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান ইরানের রাজতন্ত্রপন্থী এবং অন্যান্য বিরোধী উপদলগুলোর মধ্যে নতুন করে মেরূকরণ সৃষ্টি করতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার চলমান যুদ্ধ। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি মাত্র এক দিনের মধ্যেই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবেন। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ না দেখে তিনি এখন এর দায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপাচ্ছেন। ট্রাম্পের মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি শান্তি চুক্তিতে আসতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, কিন্তু জেলেনস্কির অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনা থমকে আছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের প্রতি নিজের চরম হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, শান্তির পথে প্রধান বাধা এখন জেলেনস্কি নিজেই এবং তাকে এই চুক্তিতে রাজি করানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসার পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ কার্যত মার্কিন প্রশাসনের হাতে চলে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা এবং নোবেল জয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মাচাদো তাঁর নোবেল পুরস্কার ট্রাম্পকে উৎসর্গ করতে চাইলেও কারিগরি কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় ট্রাম্প তার প্রশংসা করে তাকে একজন চমৎকার নারী হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও কাজ করা বেশ সহজ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন