ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতোবা হোসেইনি খামেনি। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তার ৫৬ বছর বয়সী দ্বিতীয় সন্তান মোজতোবাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হলো।
রোববার তেহরান সময় মধ্যরাতের ঠিক পরেই ৮৮ সদস্যের ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) এক বিবৃতিতে নতুন নেতা নির্বাচনের এই ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্ধারণমূলক ভোটের মাধ্যমে মোজতোবা খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এই পদের অধিকারী হওয়ার ফলে তিনি এখন থেকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সকল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা লাভ করলেন।
উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগে যুদ্ধের প্রথম দিনে ইসরায়েলি হামলায় মোজতোবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় খামেনির স্ত্রী এবং মোজতোবার স্ত্রী ও বোনও প্রাণ হারান। মোজতোবা ঘটনাস্থলে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। ৪৭ বছরের ইতিহাসে ইরান যখন তার সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই যুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব পড়ল তার কাঁধে।
মোজতোবা খামেনিকে দীর্ঘ সময় ধরে তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করেন খামেনি অনুসারীরা। দেশটির প্রভাবশালী বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর’ (আইআরজিসি) মধ্যে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন রয়েছে। অধিকাংশ সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও এবং কোনো সরকারি দায়িত্বে না থাকলেও ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোতে তার প্রভাব ছিল বিস্তৃত।
এদিকে, মোজতোবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরানের পরবর্তী নেতাকে অবশ্যই ওয়াশিংটনের অনুমোদন নিতে হবে, অন্যথায় তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না। অন্যদিকে, নতুন নেতা ঘোষণার আগেই ইসরায়েল হুমকি দিয়েছে যে, যাকে নির্বাচিত করা হোক না কেন, তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হায়দারি আলে কাসির জানান, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দেওয়া পরামর্শের ভিত্তিতেই মোজতোবাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। খামেনির সেই পরামর্শ ছিল- ইরানের শীর্ষ নেতাকে শত্রুর দ্বারা প্রশংসিত হওয়ার বদলে তাদের কাছে ‘ঘৃণিত হতে হবে’।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন