মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা যখন ক্রমেই গভীর হচ্ছে, তখন সেই সংঘাতের ঢেউ আফ্রিকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন মুহুজি কাইনেরুগাবা।
উগান্ডার এই সেনাপ্রধান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েল অস্তিত্ব সংকটে পড়লে তার দেশ তেল আবিবের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক পোস্টে
তিনি বলেন, বিশ্ব এখন মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ক্লান্ত। তবে ইসরায়েলকে ধ্বংস বা পরাজিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা উগান্ডাকে সরাসরি যুদ্ধে টেনে আনবে। তার ভাষায়, সেই যুদ্ধে উগান্ডা থাকবে ইসরায়েলের পক্ষেই।
এই বক্তব্যে শুধু সমর্থনেই থেমে থাকেননি তিনি। সরাসরি ইরানকে লক্ষ্য করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি উগান্ডার দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, তাহলে পাল্টা আঘাত হানবে উগান্ডাও। একই সঙ্গে
তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রয়োজনে সামরিক সহায়তা দিতে উগান্ডান সেনারা প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ আরও একটি কারণে। মুহুজি কাইনেরুগাবা হলেন ইয়োওয়েরি মুসেভেনির পুত্র এবং উগান্ডার ক্ষমতাকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে তার বক্তব্য ব্যক্তিগত মত হলেও, তা রাষ্ট্রীয় অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবেই আন্তর্জাতিক মহলে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতি তার ঝোঁক নতুন নয়। চলতি বছরের শুরুতে তিনি ১৯৭৬ সালের এন্টেবে উদ্ধার অভিযানে নিহত ইসরায়েলি কমান্ডো জোনাথন নেতানিয়াহুর স্মরণে উগান্ডায় ভাস্কর্য স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। জোনাথন ছিলেন বর্তমান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই।
যদিও এখন পর্যন্ত উগান্ডা সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি, তবে সেনাপ্রধানের প্রকাশ্য ও কঠোর প্রো-ইসরায়েল অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আফ্রিকার কোনো দেশের এমন সরাসরি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল ও বহুমাত্রিক করে তুলতে পারে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন