এফএও

বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ১২:০৬ এএম
বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম রেকর্ড হারে বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিলে খাদ্যপণ্যের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় টানা তিন মাস ধরে বিশ্বজুড়ে খাদ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বায়োফুয়েল তৈরিতে সয়াবিন ও পাম অয়েলের মতো উদ্ভিজ্জ তেলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, পূর্ববর্তী মৌসুমের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় চাল ও গমের মতো খাদ্যশস্যের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।

বিশ্ববাজারে কেনাবেচা হওয়া খাদ্যপণ্যের দাম পরিমাপকারী ‘এফএও ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ এপ্রিলে গড়ে ১৩০.৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি মার্চ মাসের তুলনায় ১.৬ শতাংশ বেশি এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালের মার্চে এই সূচক সর্বোচ্চ ১৬০.২ পয়েন্টে উঠেছিল।

ভোজ্যতেল: এপ্রিল মাসে ভোজ্যতেলের মূল্য সূচক ৫.৯ শতাংশ বেড়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সয়াবিন, সূর্যমুখী ও পাম অয়েলের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাহিদা বৃদ্ধি এর মূল কারণ।

খাদ্যশস্য: গম ও ভুট্টার দাম মার্চ থেকে মাত্র ০.৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে সার ও পরিবহণ খরচ বাড়লে ভবিষ্যতে এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাংস ও চিনি: ব্রাজিলে গবাদি পশুর সংকটে মাংসের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিপরীতে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় চিনির দাম বিশ্ববাজারে ৪.৭ শতাংশ কমেছে।

এফএও তাদের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের জন্য বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩০৪ কোটি মেট্রিক টনে উন্নীত করেছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, সারের উচ্চমূল্যের কারণে ২০২৬ সালে গমের চাষাবাদ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

জেএইচআর