সমঝোতায় পৌঁছেছে ওয়াশিংটন-তেহরান, অপেক্ষা ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৯, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
সমঝোতায় পৌঁছেছে ওয়াশিংটন-তেহরান, অপেক্ষা ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং চলমান সংঘাতের মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যস্থতাকারীরা একটি ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) একমত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি সামনে আনা হয়েছে। তবে চুক্তিটি কার্যকর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও মেলেনি।

মার্কিন প্রশাসনের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই খসড়া সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন কর্তারা জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ আলোচনার পর গত মঙ্গলবার চুক্তির প্রায় সব শর্তে দুই পক্ষই সম্মত হয়েছিল। তবে তেহরান এই বিষয়ে ইতিবাচক সঙ্কেত দিলেও, ইরান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি মেনে নেওয়ার কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেনি।

হোয়াইট হাউজের আলোচকেরা খসড়া চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে হস্তান্তর করলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাক্ষর করেননি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার জন্য প্রেসিডেন্ট আরও কয়েক দিন সময় চেয়েছেন। যদি এই সমঝোতা স্মারকটি শেষ পর্যন্ত সই হয়, তবে তা হবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

৬০ দিনের এই খসড়া চুক্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বাধা বা টোল নেওয়া যাবে না। এছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে ইরানকে এই প্রণালি থেকে সমস্ত সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করতে হবে। এর বিপরীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ ধাপে ধাপে তুলে নেবে।

এই এমওইউ-এর আওতায় ইরান আন্তর্জাতিক মহলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করাসহ বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল অবমুক্ত করার বিষয়ে সরাসরি আলোচনা শুরু করবে। এই নির্দিষ্ট ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ইরানের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা স্থানান্তরের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

খসড়া সমঝোতায় আরও বলা হয়েছে, ইরানে মানবিক সহায়তা ও জরুরি পণ্য পৌঁছানোর জন্য একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধ চিরতরে বন্ধ করার বিষয়টিও এই স্মারকে অন্তর্ভুক্ত থাকছে। এই লেবানন ইস্যুটি নিয়ে অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল।

তবে এই চরম উত্তেজনার মধ্যেও গত কয়েক ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের নৌবাহিনীর মধ্যে দুটি ছোটখাটো সংঘর্ষের খবর মিলেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়ার পেছনে কোনো ‘গোপন চুক্তি’ নেই। তেহরান পারমাণবিক ইস্যুতে যত বেশি ছাড় দিতে রাজি হবে, তারা অর্থনৈতিকভাবে তত বেশি সুবিধা পাবে।

সবশেষে মার্কিন প্রশাসন সতর্ক করেছে যে, আলোচনার টেবিলে যদি বোঝা যায় ইরান তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখছে না, তবে ওয়াশিংটন ভিন্ন পথ ধরবে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্পের হাতে তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোর করা কিংবা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সব বিকল্পই খোলা থাকবে। তবে আপাতত ট্রাম্প বুধবার জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে সই করার জন্য তার কোনো তাড়াহুড়ো নেই।

এএন