ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলা, বাড়ছে হরমুজ উত্তেজনা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম
ইরানের উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় মার্কিন হামলা, বাড়ছে হরমুজ উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী এলাকায় ইরানের পাঠানো চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৬ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালির দিকে চারটি ড্রোন পাঠিয়েছিল, যা আঞ্চলিক জলপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা। ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পর ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত রাডার এবং পর্যবেক্ষণ স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হয়।

তিন মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে এ ঘটনাকে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও একই সময়ে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাব্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির মাধ্যমে সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত করার চেষ্টা চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আলোচনায় ইরান তাদের তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত অর্থে প্রবেশাধিকার, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হতো।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তাদের হাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে।

ইরানের নেতৃত্ব কেন দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাচ্ছে না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন জাতি, তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তাদের কিছুটা সময় লাগছে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে দুটি হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি জানিয়েছে, সম্প্রতি দখল করা বউফোর্ট দুর্গের আশপাশেও তারা হামলা চালিয়েছে।

লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলাও অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।

ইরান জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার না হলে আঞ্চলিক পর্যায়ে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে তারা।

মার্চের শুরুতে ইরানে হামলার পর হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ নতুন করে শুরু হয়। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, ওই প্রস্তাবে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরাবে না এবং সামরিক অভিযানও বন্ধ করবে না। তবে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নবিহ বেরি বলেছেন, ইসরায়েল দখলকৃত এলাকা ছেড়ে দিলে দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহর সরে যাওয়ার বিষয়ে সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

এ সপ্তাহে লেবাননের পাশাপাশি গাজা, উত্তর ইসরায়েল ও কুয়েতেও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

এএন