উত্তর ইরাকে একটি অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে একজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর মাত্র এক দিন আগে জর্দানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং আরেকজন নিখোঁজ হন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, শনিবার উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি হামলাকারী ড্রোনে থাকা অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র নিরাপদে অপসারণের সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন সেনা সদস্যের মৃত্যু হয় এবং আরেকজন আহত হন।
এদিকে জর্দানে শুক্রবারের হামলার স্থান থেকে তল্লাশি চালিয়ে কিছু মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
এ ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা অষ্টম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা এবং উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে।
পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে।
এক মাসেরও কম সময় আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্দানে হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযুক্ত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-কে দ্রুত জবাব দেওয়া।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
রবিবারও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারখোভেইনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কেশম দ্বীপে রাতের বেলায় হামলা চালানো হয়েছে।
জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা এ ঘটনায় সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাটি এখনো নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো পারমাণবিক উপাদান ছিল না।
এদিকে জর্দানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি প্রত্যন্ত এলাকায় পড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছিল, জর্দানের আকাবা বন্দর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
হামলার পর জর্দান ইরানের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধের দাবি জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘অযৌক্তিক ও প্রকাশ্য ইরানি হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, জর্দানের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জর্দানের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ যাতে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে না পড়ে, সে জন্য তারা একাধিক প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। পরে জর্দান সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এইলাতের আশপাশে প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন