৫০ বার ব্যর্থতার পর ‘সরি বাবা’ লিখে স্বর্ণপদকজয়ী প্রকৌশলীর আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
৫০ বার ব্যর্থতার পর ‘সরি বাবা’ লিখে স্বর্ণপদকজয়ী প্রকৌশলীর আত্মহত্যা

একাডেমিক শিক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য আর মেধার স্বীকৃতিস্বরূপ গলায় উঠেছিল স্বর্ণপদক। কিন্তু সেই মেধা দিয়েও মিলছিল না এক টুকরো সরকারি চাকরি। প্রায় ৫০ বার বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এক ভারতীয় তরুণ প্রকৌশলী।

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরের গোবিন্দ নগর এলাকায় এই নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত তরুণের নাম আনন্দ। তিনি ২০২৪ সালে কানপুরের একটি বেসরকারি প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (PSIT) থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি-টেক সম্পন্ন করেন। তিনি তাঁর বিভাগে প্রথম এবং পুরো উত্তর প্রদেশে তৃতীয় স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আনন্দের পরিবারের সদস্যরা তাঁর বড় ভাইয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে বিহারে অবস্থান করছিলেন। কানপুরের তিনতলা বাড়িতে আনন্দ একাই ছিলেন। দীর্ঘ সময় ঘরের দরজায় কড়া নেড়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির গৃহকর্মী প্রতিবেশীদের জানান এবং পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ এসে দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আনন্দের মরদেহ উদ্ধার করে। তল্লাশিকালে তাঁর ঘর থেকে একটি সংক্ষিপ্ত সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়।

আত্মহত্যার আগে আনন্দের লিখে যাওয়া পাঁচ লাইনের সেই চিরকুটে লুকিয়ে ছিল এক বুক হতাশা ও ব্যর্থতার গ্লানি। তিনি লিখেছেন, সরি, বাবা। সরকারি চাকরি পাওয়ার জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করে দিও।

নিহতের বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ পাওয়ার গ্রিডে এক বছরের শিক্ষানবিশ (অ্যাপ্রেন্টিস) হিসেবে কাজ করেছিলেন। এরপর সরকারি চাকরির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তিনি রেলওয়ে, স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), ব্যাংক এবং শিক্ষা বিভাগের অন্তত ৫০টি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও কোথাও চাকরি পাননি। ক্রমাগত এই ব্যর্থতার কারণে গত কয়েক মাস ধরে তিনি তীব্র মানসিক বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন।

গোবিন্দ নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) অশোক কুমার দুবে জানান, প্রাথমিক তদন্তে সরকারি চাকরি না পাওয়ার মানসিক চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

জেএইচআর