জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা হচ্ছে আজ সোমবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বেলা ১১টায় এ মামলার রায় ঘোষণা করবে বলে রেজিস্ট্রার অফিস নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় এ রায় সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।
রায়কে ঘিরে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকায় সেনাসদস্য মোতায়েনের জন্য সেনাসদরে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, রায় ঘোষণার দিন আদালতপাড়ায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
মামলার আসামি তিনজন হলেন, শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে বিস্তৃত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, সব ঘটনার বিচার করলে মামলার নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর লেগে যেত। তাই প্রসিকিউশন সুনির্দিষ্ট, প্রত্যক্ষ প্রমাণসহ পাঁচটি গুরুতর মানবতাবিরোধী অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করে।
আজ এই পাঁচ অভিযোগের ওপর ভিত্তি করেই বের হবে বহুল প্রত্যাশিত রায়—যা দেখবে পুরো দেশ, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ
উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগ
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে বসে আন্দোলনকারী তরুণ–শিক্ষার্থীদের “রাজাকারের বাচ্চা–নাতি” বলে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই বক্তব্যের পর পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ–সমর্থিত লোকজন সমন্বিতভাবে হামলে পড়ে বিভিন্ন স্থানের আন্দোলনকারীদের ওপর—যেখানে বহু হত্যা, নির্যাতন ও গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।
হেলিকপ্টার ও ড্রোন থেকে গুলি ছোড়ার নির্দেশ
অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা, যা বাস্তবায়ন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল ও আইজিপি মামুন। এর মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয় সুপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিন আসামির বিরুদ্ধে নির্দেশ, প্ররোচনা, সহায়তা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চাঁনখারপুলে ছয় ছাত্র নিহতের ঘটনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয় ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনাতেও একইভাবে দায় আরোপ করা হয়েছে তিন আসামির ওপর।
আশুলিয়ায় ৬ জনকে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে ফেলা
৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে ফেলা এবং গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন