আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার অংশ হিসেবে আজ উপস্থাপিত হচ্ছে সর্বোচ্চ শাস্তির পক্ষে–বিপক্ষের যুক্তিতর্ক। প্রধান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায়ের শেষ অংশ পাঠ করছেন।
রায় পাঠের শুরুতেই ট্রাইব্যুনাল সাম্প্রতিক সময়ে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেওয়া বক্তব্যের বিবরণ তুলে ধরে। এরপর কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যার ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা পড়ে শোনানো হয়।
রায়ে বিচারকাজ চলাকালে উপস্থাপিত অডিও–ভিডিওসহ সব তথ্য–উপাত্তের উল্লেখ করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্যও তুলে ধরেন প্রধান বিচারপতি। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে সংগৃহীত নানা ভিডিও ফুটেজে পাওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের তথ্য–প্রমাণ আদালতে উপস্থাপিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহারের ঘটনাগুলোর ভিডিও ও প্রামাণ্য তথ্যের উদ্ধৃতিও রায়ে স্থান পায়।
এর আগে ট্রাইব্যুনাল আন্দোলন চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনের অংশ পাঠ করে শোনায়।
গণ–অভ্যুত্থানকালে শেখ হাসিনার বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের অডিওও আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল।
রায়ের শেষাংশে এখন আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি–প্রতিযুক্তির সারসংক্ষেপ পড়া হচ্ছে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন