শেখ হাসিনা ও কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৪:০৭ পিএম
শেখ হাসিনা ও কামালের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নামে দেশে থাকা সব সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই নির্দেশ প্রদান করেন।

মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর টানা ৯ কার্যদিবস ধরে চলে প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্র-নিযুক্ত ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক এবং পাল্টা যুক্তি। গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্যের পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন এ মামলায় শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছিল। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ মামুনের খালাস চান। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনও দাবি করেন, শেখ হাসিনা ও কামাল খালাস পাবেন বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রসিকিউশনের আনীত অভিযোগপত্রে তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়, উসকানিমূলক বক্তব্য, মারণাস্ত্রের ব্যবহার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র, চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা দালিলিক প্রমাণ ও জব্দতালিকা এবং দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠায় শহীদদের তালিকা ও বিবরণ রয়েছে। সাক্ষী তালিকায় ছিলেন ৮৪ জন। চলতি বছরের ১২ মে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

ইএইচ