পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারি: শেখ হাসিনাসহ ৪৭ জনের রায়ের অপেক্ষা

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৫:১১ পিএম
পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারি: শেখ হাসিনাসহ ৪৭ জনের রায়ের অপেক্ষা

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল ও বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা তিনটি পৃথক দুর্নীতি মামলার রায় আগামীকাল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। এই মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ মোট ৪৭ জন আসামি হিসেবে অভিযুক্ত।

বুধবার আদালত সূত্রে জানা যায়, বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করবেন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, তিন মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিশ্চিত হবে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ সালাম বলেন, পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দের নামে ভয়ংকর জালিয়াতি হয়েছে। যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ সব অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলের মূল্যবান সরকারি জমি বেসরকারি স্বার্থে বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছিল।

তিনটি মামলাই গত জানুয়ারি মাসে দুদকের দুই কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন, এসএম রাশেদুল হাসান এবং আফনান জান্নাত কেয়া পৃথকভাবে দায়ের করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ ও ৩০ কাঠার বিভিন্ন প্লট সরকারিভাবে প্রকল্প এলাকায় বরাদ্দ নেওয়ার জন্য নথিপত্র জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভাগবাটোয়ারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ তিন মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়। এরপর গত ৩১ জুলাই সব আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক।

তিনটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবগুলোতেই আসামি। এর বাইরে তার ছেলে জয় দুই মামলায় এবং মেয়ে পুতুল এক মামলায় অভিযুক্ত। তারা মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

মামলাগুলোর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- রাজউকের সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম (একমাত্র কারাগারে থাকা আসামি), গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, রাজউক-এর বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ আরও বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা।

তদন্তে উঠে এসেছে, পরিকল্পিতভাবে নথি বদল, স্বাক্ষর জাল, ভূয়া অনুমোদনপত্র ও বরাদ্দ আদেশ তৈরির মাধ্যমে সরকারি প্লট দখলের চেষ্টা হয়েছিল। এর পুরো প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বিভিন্ন সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা।

প্রথম মামলায় মোট ১২ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। দ্বিতীয় মামলায় ১৭ জন এবং তৃতীয় মামলায় ১৮ জন আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়। তিন মামলায়ই অভিযোগের ধরন প্রায় একই ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল কাগজপত্র তৈরি ও দুর্নীতির মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ।

শেখ হাসিনা, জয় ও পুতুলসহ বেশ কয়েকজন আসামি দেশের বাইরে অবস্থান করায় শুরু থেকেই মামলার কার্যক্রমে উপস্থিত নেই। আদালত একাধিকবার সমন জারি করলেও তারা হাজির হননি।

রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, এই মামলাগুলো সরকারিভাবে নিয়মিত প্রক্রিয়াতেই চলেছে। তবে নাগরিক মহলে এ নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। প্লট কেলেঙ্কারির অভিযোগ দীর্ঘদিনের হওয়ায় রায়ের দিকে সবারই দৃষ্টি।

এদিকে আদালত জানিয়েছে, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই রায় দেওয়া হবে। প্রতিটি সাক্ষ্য প্রমাণ ও জবানবন্দি খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তার বিরুদ্ধে অন্যান্য বড় মামলার রায় পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে আন্তর্জাতিক মহল। ফলে রায় ঘোষণার পর কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আলোচিত পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারির তিন মামলার রায় দিয়ে দেশের অন্যতম বড় দুর্নীতির মামলার এক অধ্যায়ের শেষ হতে যাচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার কারণে এই রায় দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেশবাসীর চোখ অপেক্ষার প্রহরে বৃহস্পতিবার রায়ে কী সিদ্ধান্ত আসে।ৎ

জেএইচআর