রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সমাপ্ত হওয়ার পাঁচ দিন পর ঘোষিত এই রায়কে মামলার গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নির্দিষ্ট এলাকায় প্লট বণ্টনে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রক্রিয়াগত নিয়ম না মানা এবং সুবিধা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া নথিপত্র, সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার প্রধান আসামি হলেও জয় ও পুতুল আলাদা দুটি মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। আজ ঘোষিত রায় সেই দুটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার ফল।
দুপুরের আগেই আদালত ভবনে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। রায় ঘোষণার সময় বিচারক সংক্ষিপ্তভাবে মামলার বিবরণ তুলে ধরেন এবং পরে দণ্ড ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জড়িত করে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, আদালত সেগুলো নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের শুরুতে পূর্বাচল এলাকায় অনিয়মিতভাবে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে মোট ছয়টি মামলা করে। এ সব মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা, রেহানার দুই সন্তানসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এবং রাজউকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযুক্ত হন।
আজ যেসব মামলার রায় দেওয়া হয়েছে, তার দুইটিতে আসামি ছিলেন সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। অভিযোগ অনুসারে, স্বজনসুলভ সুবিধা আদায় এবং সরকারি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে এসব প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়।
২৩ নভেম্বর মামলার সব পক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করলে আদালত রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেন। মামলার জটিলতা ও আসামির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও বিচারক নির্ধারিত সময়েই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান তদন্তের পর পাওয়া তথ্য আদালতে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তাঁরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
একজন দায়িত্বশীল আইনজীবী বলেন, আমরা মনে করি, প্রক্রিয়াগত কিছু বিষয় যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। রায়ের কপি পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় যাব।
রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মহলেও এই মামলার রায়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ, এটি দেশের বহু আলোচিত দুর্নীতির ঘটনার মধ্যে অন্যতম। উচ্চপ্রোফাইল আসামিদের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রকল্পের পরিমাণ উভয়ই মামলাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আপিল করতে পারবে। আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় দণ্ড কার্যকর নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন