সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের তথ্য আড়াল করার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয়েছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জুনাইদ আহমেদ পলকের একটি ভিডিও ক্লিপ এবং অডিও রেকর্ড আদালতে উপস্থাপন করা হয়। যেখানে পলককে বলতে শোনা যায়, আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করিনি, ডেটা সেন্টারে আগুন লাগার কারণে এটি বন্ধ হয়ে গেছে। প্রসিকিউশন যখন এই বক্তব্য আদালতে বাজিয়ে শোনান, তখন পলক কাঠগড়ায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আসামি পলক সচেতনভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ববাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়া বা বিটিসিএল ভবনে আগুন লাগার নাটক সাজিয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ওপর দায় চাপানো হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশেই সজীব ওয়াজেদ জয় এবং পলক মিলে এই ইন্টারনেট শাটডাউনের নীল নকশা করেছিলেন।
প্রসিকিউশন এ সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং জুনাইদ আহমেদ পলকের মধ্যে হওয়া একটি টেলিফোনিক কথোপকথন পড়ে শোনান। সেখানে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটক) বন্ধ করার বিষয়ে বিশদ আলোচনা ও নির্দেশনার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রসিকিউশন দাবি করে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী পলক এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করেন যাতে গণহত্যার ছবি ও ভিডিও বিশ্ববাসীর কাছে না পৌঁছায়।
এই মামলার প্রধান আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক। তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় এবং পলকের বিরুদ্ধে গণহত্যায় উসকানি, তথ্য গোপন এবং ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম গণমাধ্যমকে জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করার আবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী কাল বা পরশুর (১২ বা ১৩ জানুয়ারি) মধ্যে এটি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য পেশ করা হবে।
প্রসিকিউশন পক্ষের শুনানি আজ শেষ হয়েছে। আদালত আগামী ১৫ জানুয়ারি আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন পলকের আইনজীবী এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেবেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন