রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত পৃথক দুই দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে আজ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার তিন সন্তানসহ মোট ২২ জন আসামির ভাগ্যের ফয়সালা হবে এই রায়ে।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে এই রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম আলোচিত বিচারিক প্রক্রিয়া।
এই মামলার তালিকায় শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানার তিন সন্তান— টিউলিপ সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং আজমিনা সিদ্দিক। এছাড়া রাজউকের তৎকালীন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন আমলাও এই মামলার আসামি। মামলার মোট ২২ জন আসামির মধ্যে ২১ জনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আইন ও বিধিনিষেধ তোয়াক্কা না করে পূর্বাচল প্রকল্পে বিশাল অংকের প্লট হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়:
তথ্য গোপন: শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট বা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সেই তথ্য গোপন করে রাজউকের কাছে আবেদন করেন।
জালিয়াতি ও প্রভাব বিস্তার: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিধিমালা লঙ্ঘন করে একাধিক প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করেন শেখ হাসিনা, যা পরবর্তীতে শেখ রেহানার সন্তানদের নামে হস্তান্তর করা হয়।
আইন অমান্য: প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাজউকের বিদ্যমান নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই রাজউকের প্লট সংক্রান্ত আরও ৪টি দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আজকের এই দুই মামলাতেও তথ্য-প্রমাণ যথেষ্ট শক্তিশালী বলে দাবি করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীরা। তাঁরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারক রবিউল আলম রায় ঘোষণার জন্য আজকের (২ ফেব্রুয়ারি) তারিখ চূড়ান্ত করেন।
দীর্ঘ সময় পর রাজউকের এই বড় দুর্নীতির বিচার সম্পন্ন হওয়াকে দেশের আইনি বিশেষজ্ঞরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বড় জয় হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের সম্পদ ও জনগণের আমানত নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের উপযুক্ত শাস্তি হবে। বিশেষ করে ওশেনিয়া বা ইউরোপে অবস্থানরত অভিযুক্তদের পলাতক অবস্থায় বিচার শেষ হওয়ায় এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ বেলা বাড়ার সাথে সাথে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আদালতের রায় কোন দিকে যায়, তা নিয়ে দেশজুড়ে যেমন কৌতুহল রয়েছে, তেমনি এই রায়ের মাধ্যমে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কারের একটি বার্তা মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন