মানিকগঞ্জ-৩ আসন

ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা খান রিতার প্রার্থিতা বহাল

আদালত প্রতিবেদক প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা খান রিতার প্রার্থিতা বহাল

মানিকগঞ্জ-৩ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘ আইনি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে নির্বাচনের সবুজ সংকেত পেলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খান রিতা। তাঁর প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনটি আজ হাইকোর্টের কার্যতালিকা (আউট অব লিস্ট) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না।

রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রিট আবেদনটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিলে রিতার আইনজীবী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, রিতার মনোনয়নকে চ্যালেঞ্জ করে যে যুক্তিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার কোনোটিই আইনি ভিত্তি পায়নি। ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া বৈধতার সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে। ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা যাচাই-বাছাই শেষে রিতার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি একই আসনের স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থী আতাউর রহমান আতা। গত ৮ ডিসেম্বর তিনি রিতার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি ও বিদেশি নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।

গত ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এই আপিলের ওপর দীর্ঘ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন উভয় পক্ষের নথি এবং বিভিন্ন সংস্থার তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে।

নির্বাচন কমিশন তাদের শুনানিতে স্পষ্ট করে জানায় যে, আফরোজা খান রিতার বিরুদ্ধে আনা ঋণখেলাপি বা দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আতাউর রহমান আতা উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে ইসি রিতার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়েছিল, যা আজ খারিজ হয়ে গেল।

আফরোজা খান রিতার প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনে এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুমুখী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। নিচে এই আসনের নির্বাচনী পরিক্রমার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:

আদালতের এই সিদ্ধান্তের খবর মানিকগঞ্জে পৌঁছামাত্রই বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিতা কেবল একজন প্রার্থী নন, তিনি এই অঞ্চলে বিএনপির একটি বড় ভোটব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় লড়াই এখন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে।

গণতন্ত্রের উৎসবে আইনি লড়াই একটি সাধারণ প্রক্রিয়া হলেও, সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতে সেই লড়াইয়ে টিকে থাকাই আসল চ্যালেঞ্জ। আফরোজা খান রিতার ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণাদি তাঁর পক্ষেই কথা বলেছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি বৈতরণী পার হওয়ার পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের লড়াইয়ে তিনি কতটা সফল হন।

এএন