সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে পৃথক চার মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ অন্যান্য মামলা অন্তর্ভুক্ত।
রোববার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ চার মামলার জামিন আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। ৪ মার্চ শুনানি শেষ হওয়া রুল অনুযায়ী আজ (রোববার) চারটি মামলার আবেদনের ওপর রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত বেলা ২টা ৫ মিনিটে রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করেন।
এ ছাড়াও দুদকের করা মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে রুল হাইকোর্টের অন্য দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানিয়েছেন, ওই শুনানি আগামী ১১ মার্চ হতে পারে।
রায়ের সময় খায়রুল হকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন, সাঈদ আহমেদ রাজা, মোহাতার হোসেন সাজু ও মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন ও মো. জহিরুল ইসলাম সুমন। রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, চার মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন এবং আপিল বিভাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নেবেন।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেন, যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে চিহ্নিত।
গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পরে ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় এবং বেআইনি রায় দেওয়ার ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে শাহবাগ ও নারায়ণগঞ্জে পৃথকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দুদকও গত আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে প্লট গ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
এভাবে চার মামলায় জামিন পাওয়ার সঙ্গে খায়রুল হক আদালতের কাছ থেকে স্বস্তি পেয়েছেন, তবে অন্যান্য মামলার শুনানির অপেক্ষা এখনও রয়েছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন