সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আইনি ঘেরাটোপ আরও শক্ত হয়েছে। শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশযাত্রা রোধে এই নিষেধাজ্ঞা দেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর উপপরিদর্শক মো. আবদুল হান্নান এই আবেদনটি করেছিলেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন গণমাধ্যমকে আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর দেশে অবস্থান করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন এমন আশঙ্কায় এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে:
তদবির-বাণিজ্য: উপদেষ্টার দপ্তরে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন মহলে তদবির-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি: স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
বিদেশে অর্থ পাচার: অবৈধভাবে অর্জিত এই বিপুল অর্থ তিনি হুন্ডি বা অন্য কোনো গোপন উপায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে সিআইডির বিশেষায়িত টিম মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার) প্রতিরোধ আইনে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে। তাঁর ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির উৎস এবং বিদেশে অর্থ পাঠানোর নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি ক্ষমতার যে প্রভাব খাটিয়েছেন, তা নজিরবিহীন। বিপুল এই সম্পদের উৎস তিনি কোনোভাবেই বৈধ পথে দেখাতে পারবেন না বলে আমরা ধারণা করছি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মতো একজন প্রভাবশালী সাবেক উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে পরিচিত মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ প্রশাসনে বড় ধরনের বার্তা দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভেতরের কোনো সিন্ডিকেট এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের সকল বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে মোয়াজ্জেম হোসেনের তথ্য সম্বলিত সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষ করে দ্রুতই তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হবে। প্রয়োজন বোধে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদনও করতে পারে সংস্থাটি।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। মোয়াজ্জেম হোসেনের মতো ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ব্যক্তিগত আখের গোছানোর প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন