রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম দিনেই আদালতে নতুন নাটকীয়তার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের ওপর থেকে খুনের দায় সরাতে ‘ডলার’ নামের এক তৃতীয় ব্যক্তির নাম জড়িয়েছে।
তবে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী একে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যা দিয়ে উল্লেখ করেন, ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে নিজেকে রক্ষা করতেই আসামি এই ধরণের বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট বক্তব্য দিচ্ছে।
সোমবার সকালে কড়া পুলিশি পাহারায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়।
এজলাসের কার্যক্রম শেষে বাইরে নিয়ে আসার সময় সাংবাদিকদের সামনে এক বিস্ফোরক দাবি করে সোহেল। সে রামিসাকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যার পুরো দায় চাপিয়ে দেয় ডলারের ওপর। তার দাবি, মিরপুর ১১ নম্বরের ধনী ব্যক্তি ডলার তাকে এই কাজের জন্য দুই লাখ টাকা দিয়েছিল।
এর আগে আদালতের মূল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর শিশু রামিসার সাথে ঘটা নির্মম ও লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান।
বিপরীতে, আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনি সহায়তাকারী আইনজীবী তাদের নির্দোষ দাবি করে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের সওয়াল-জওয়াব শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।
এই চাঞ্চল্যকর মামলায় নিহতের বাবা-মা, বোন, চাচা-চাচি, প্রতিবেশী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছয় সদস্যসহ সর্বমোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, আগামী ২৯ কার্যদিবসের মধ্যেই এই স্পর্শকাতর মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় ঘোষণা করতে হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন