রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়েছে।
বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
শুনানি উপলক্ষে এদিন সকালে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। এরপর তাঁদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়।
পরবর্তীতে বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোহেলকে এবং তার ১০ মিনিট পর স্বপ্নাকে হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারক প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এই মামলার সব সাক্ষীর জবানবন্দি পড়ে শোনান এবং তাঁর বক্তব্য জানতে চান।
জবাবে সোহেল রানা বলেন, তিনি পুরোপুরি নির্দোষ নন, অপরাধ তিনিও করেছেন। তবে তাঁর সাথে 'ডলার' নামে আরেকজন ছিল, যাকে ধরার অনুরোধ জানান তিনি। নিজের ছোট সন্তানের কথা উল্লেখ করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন সোহেল। অন্যদিকে স্ত্রী স্বপ্নার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন।
এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের এই শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের আবেদনের জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকীও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১ জুন এই হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। পরে ট্রাইব্যুনাল এই অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেছিলেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন