দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

খেলাপি ঋণ লুকোনো ছিল, ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৮:০৬ পিএম
খেলাপি ঋণ লুকোনো ছিল, ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’

দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা অস্বচ্ছতা ও আর্থিক দুর্বলতা এখন দ্রুত গতিতে প্রকাশ্যে চলে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, খেলাপি ঋণের প্রকৃত হিসাব সামনে আসার পাশাপাশি প্রভিশন ঘাটতি ও তারল্য সঙ্কট মিলিয়ে সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা এখন “গুরুতর ঝুঁকির মুখে”।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল অর্থসূচক আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাবেক আমলা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি; সম্পাদনা করেছেন অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এই প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “ঋণগুলো লুকানো ছিল। এখন বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। শরীরে এত রোগ ছিল, আপনি জানতেনই না। এখন রোগ দেখা যাচ্ছে বলে সবাই বিচলিত।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও কার্যকর কোনো কাঠামোগত সংস্কার হয়নি বলে দাবি করেন এই অর্থনীতিবিদ।

তিনি বলেন, “নীতি নির্ধারণে এখনো স্বচ্ছতার বড় ঘাটতি আছে। বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে, তবু তা ত্বরান্বিত করার জন্য সুদের হারসহ প্রয়োজনীয় নীতি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না—এটাই মূল উদ্বেগ।”

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মন্তব্য, “অর্থনীতি এতটা দুর্বল অবস্থায় পৌঁছালেও রোগ নিরাময়ে সরকারের বাস্তব পদক্ষেপ খুবই সীমিত। পাঁচ ব্যাংক এক করা, কিছু ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ এ ছাড়া দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “গত সরকারকে চৌর্যবৃত্তি করতে আমলাতন্ত্র সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সাংবাদিকদের ঢুকতে দিতে চাইত না কারণ তারা স্বচ্ছতা চায়নি। সেদিনও বলেছিলাম ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।’ আজও সেই অবস্থাই।”

তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তাকে ইঙ্গিত করে বলেন,
“যারা প্রধান হবেন সেই দুই-তিনজনও এ দায় এড়াতে পারেন না।”

দীর্ঘ দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে অর্থনৈতিক সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের আকুতি ধরে রেখেছেন উল্লেখ করে দেবপ্রিয় বলেন, “রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় ঘাটতি থাকলেও অর্থনৈতিক সাংবাদিকরা বড় ভূমিকা রেখেছেন। বেনামি ঋণের প্রতিবেদন থেকেই আমরা জানতে পেরেছি কারা শক্তির পেছনে আছে, কীভাবে টাকা পাচার হয়েছে, কার সঙ্গে কার যোগসাজশ।”

ইএইচ