ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর ওপর একজন হামলা করেনি উল্লেখ করে সংগঠনটির কর্মী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেছেন, ‘এই প্ল্যান একজন করেনি, একজন এক্সিকিউট করেনি। এই পুরো সিন্ডিকেট এখনো অ্যাকটিভ এবং খুনিদের সহযোগীরা হাসপাতালে এসেছিল বলেও আমাদের কাছে তথ্য এসেছে।’
তিনি পুরো সিন্ডিকেটকে জীবিত গ্রেপ্তার দেখতে চান উল্লেখ করে বলেন, ‘ওসমান ভাইয়েরসহ সবার নিরাপত্তা জোরদার করেন। অনেক কষ্ট করে ধৈর্য্য ধরে আছি আমরা। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ পারবো না।’
এদিকে হাদীর ওপর হামলাকারীরা ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। এ নিয়ে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়েছেন আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তবে এটি ‘আসামি পালিয়ে গেছে বলে হতাশা তৈরি করে দায়মুক্তি নিতে চাওয়া কিবা পালাতে সহযোগিতা করার একটা প্ল্যান’ বলে মনে করেন ফাতিমা তাসনিম জুমা।
রোববার ভোরে আসামিদের ‘পালিয়ে যাওয়া’ নিয়ে পোস্ট করেন জুলকারনাইন সায়ের।
তিনি তার পোস্টে বলেন, ‘ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত শ্যুটার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং তার সহযোগী মোটরবাইক চালক আলমগীর হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় (১২ ডিসেম্বর) সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের বর্তমান অবস্থান আসামের গুয়াহাটি শহরে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘ভারতে তাদের সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব। বিপ্লবের তত্বাবধানে এই হত্যাকারীরা ভারতে অবস্থান করছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ করা হয়েছে এবং আরো কয়েকটি হিট টিমের একইরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তির পরিকল্পনা চেষ্টা রয়েছে। এদিকে মূল শ্যুটার ফয়সাল তার ঘনিষ্ঠ মহলে দাবি করেছে, ব্যবহৃত অস্ত্রটি জ্যাম হয়ে যাওয়ায় সে কেবল একটি গুলি করতে সক্ষম হয়। তার পরিকল্পনা ছিল চারটি গুলি করার।’
আজ সকালে এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে জুমা বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস আসামি পালায়নি। পালিয়ে গিয়েছে বলে হতাশা তৈরি করে দায়মুক্তি নিতে চাইছে অথবা পালাতে সহযোগিতা করার একটা প্ল্যান এটা।’
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে একাধিক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সন্দেহভাজন শ্যুটার ফয়সাল করিমের ছবিসহ খবর প্রকাশিত হয়েছিল, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় একটি অফিসে ঢুকে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুট ও ডাকাতির মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ফয়সাল করিম র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে জুমা বলেন, ‘যে আসামি অলরেডি একবার গ্রেপ্তার হয়েছে, তার সব তথ্য সংস্থাগুলোর কাছে আছে। তবুও তাকে চিহ্নিত করতে পারছে না, আটকাতে পারছে না; এইটা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।‘
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন