আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারস্থ হয়েছেন দুই সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। তাঁরা হলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা।
ইসি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে বুধবার ব্যারিষ্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে ইসি বরাবর লিখিত আবেদন করেন এবং নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন।
এরপর কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনারদের সাথে দেখা করে লিখিত আবেদন জমা দেন। সিইসিকে দেওয়া অভিযোগে সিগমা বলেন, "নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করার অঙ্গীকার থাকলেও তা বাধাগ্রস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে।" তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ‘ন্যক্কারজনক’ তৎপরতার অভিযোগ আনেন।
কাজী রেহা কবির সিগমা অভিযোগ করেন, গত ১৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১টায় তাঁর এক নিরীহ ও জনপ্রিয় কর্মী মো. কিয়ামত আলীকে গ্রেপ্তার করে একটি পুরনো ও বানোয়াট মামলায় আসামি দেখানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কিয়ামতের বিরুদ্ধে আগে কোনো অভিযোগ ছিল না এবং এই গ্রেপ্তার শুধুমাত্র কর্মীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি ও নির্বাচনী কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য করা হয়েছে। সিগমা অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
পরে সাংবাদিকদের রেহা কবির সিগমা বলেন, পুলিশ ভীতি সৃষ্টি করছে। আমার কর্মী ও আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অন্যদিকে, প্রার্থীদের নিরাপত্তার শঙ্কা নিয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যারিস্টার ফুয়াদও অভিযোগ করেছেন যে পুলিশ তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে না। তিনি বলেন, আমরা সার্বিকভাবে সব প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন